
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি প্রস্তুত। যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ মুহূর্তে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে আইন সংশোধনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত হওয়া ভোটাররা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন ভবনে আসেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেস। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ?জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। স্টিফেন রড্রিগেস আরও বলেন, শুরুতেই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সফল একটি নির্বাচন আয়োজন করার জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশে গত যে জাতীয় নির্বাচনটি হয়েছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যতের পথ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং এই নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব ক্ষেত্রে ইউএনডিপি বা জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আর কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
সামনে স্থানীয় সরকারের ভোট, দেশে ভোটার এখন প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাতে নতুন করে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন ভোটার যুক্ত হওয়ায় দেশে মোট ভোটার এখন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ উপলক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, 'এ ভোটার নিয়ে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এগিয়ে যাবে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা ভোটার হয়েছেন তারাই ভোট দিতে পারবেন।'
নতুন তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। গত ১৪ মে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৯ অগাস্ট ওই হালনাগাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি-আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণের পর তা নিষ্পত্তি করে ৩১ অগাস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ করে ইসি।
ভোটকেন্দ্রও চূড়ান্ত : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন মিলিয়ে সারা দেশে সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ২ থেকে ৩ হাজার বেশি ভোটকেন্দ্র হতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিল ইসি।
প্রতি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় সরকার ভোটের প্রস্তুতি : স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের মধ্যে সামনে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৫০০টি উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে নির্বাচন রয়েছে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই পর্ব শুরু করার কথা রয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত ভোটের জন্য প্রায় দুই মাস সময় রাখা হয়। সে বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার বলেন, 'শিডিউল যদি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দিই, ইলেকশনটা আগামী বছরে চলে যাবে। আগামী বছর ইলেকশন করলে আমাকে এ বছর শিডিউল দিতে হবে।' তিনি বলেন, 'আশা করছি, হয়তো আমরা সেপ্টেম্বরে শিডিউলটা ঘোষণা করতে পারব। তাহলে কিছু কিছু বছরের শেষে, কিছু আগামী বছরেও চলে যেতে পারে।'
স্থানীয় ভোটে সহায়তা করবে ইউএনডিপি : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেস। গতকাল সোমবার সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্টিভেন রড্রিগেস বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের 'অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ' আলোচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করায় তিনি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে ইউএনডিপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্টিভেন রড্রিগেস বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইউএনডিপি, অন্যান্য দাতা সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যেমন- ইউএন উইমেন, ইউএনওডিসি ও ইউনেস্কো- নির্বাচন আয়োজনের কাজে সহায়তা দিয়েছে। অংশীজনরা সহযোগিতা করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।