ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

টক বরইয়ের বাগানে স্বাবলম্বী

টক বরইয়ের বাগানে স্বাবলম্বী

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এমনই টক বরইয়ের বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন। প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে। মোসলেম উদ্দিনের বাগানে চারদিকে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বড়ই। বাগানে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। পরে এসব বড়ই চলে যাচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।

কৃষিকাজে মোসলেম উদ্দিনের অভিজ্ঞতা প্রায় ৩০ বছরের। লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করলেও আগাম টক বরই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন ব্যাপক সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনায় ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এ বাগান। আগস্টের শুরু থেকেই বাগান থেকে আগাম টক বরই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ জনে। এতে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বড়ই ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৬০ কেজি বড়ই। বর্তমানে প্রতি কেজি বরই ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বরই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মোসলেম উদ্দিন। মৌসুমের ভরা সময়ে দাম কিছুটা কমলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় ১ কোটি টাকার বরই বিক্রি করেন তিনি। শুধু বাজারেই নয়, মোসলেম উদ্দিনের বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বরই কিনে থাকে। মোসলেম উদ্দিনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষকও বরই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ এরইমধ্যে নতুন করে বাগান গড়ে তুলেছেন। মোসলেম উদ্দিন বলেন, 'বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফল হতে পারেন। এ দেশের মাটি বরই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ও চাষাবাদে সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত