ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

মেম্বার-কাউন্সিলরদের ভোটের প্রচারণা সীমিত করল ইসি

মেম্বার-কাউন্সিলরদের ভোটের প্রচারণা সীমিত করল ইসি

চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরইমধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করেছে ইসি। যেখানে সব প্রার্থীর জন্য সবকিছু সমান থাকলেও প্রচারণার ক্ষেত্রে বিলবোর্ড ব্যবহারে রয়েছে অসমতা। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ সদস্যরা প্রচারণার ক্ষেত্রে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তৈরি করা আচরণবিধি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ওয়ার্ডপ্রতি একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রতি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনি এলাকায় ২০টি— এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ বিলবোর্ড প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রতি থানা অথবা উপজেলায় একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইসির প্রকাশ করা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের আচরণবিধি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রচারণার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী ওয়ার্ডপ্রতি একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে একজন মেয়র প্রার্থী কিংবা চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যারা সাধারণ সদস্য কিংবা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, তারা নিজ ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচন করবেন, তারাও একটি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

একজন মেয়র প্রার্থী কিংবা চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যারা সাধারণ সদস্য কিংবা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, তারা নিজ ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচন করবেন, তারাও একটি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন

এ বিষয়ে কথা হলে ইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় নির্বাচনে পরিষদের সদস্য হতে চাইলে তাকে একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করতে হয়। এখন আচরণবিধি অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন, তিনি ওই ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড লাগাতে পারবেন না। কিন্তু যিনি মেয়র পদে নির্বাচন করছেন, তিনি যদি প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করেন, তাহলে তার পুরো নির্বাচনি এলাকা কাভার হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একজন সাধারণ সদস্যের নির্বাচনি এলাকা ছোট হলেও তার পুরো এলাকা কাভার করার জন্য একটি বিলবোর্ড যথেষ্ট নয়। তবে প্রচারণার অন্যান্য সবকিছু একই থাকবে। তিনি আরও বলেন, এখানে প্রচারণা সীমিত না দেখে আপনি অন্যদিক দেখতে পারেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক থাকে। সবাই যদি একাধিক বিলবোর্ড ব্যবহার করতে থাকেন, তাহলে সাধারণ জনগণের চলাচলে সমস্যা তৈরি হবে। এ ছাড়া বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হতে পারে। এসব কথা চিন্তা করে আমরা ওয়ার্ডপ্রতি একটি করে রেখেছি।

অন্যদিকে, বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যান্য যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে, তা সব ক্ষেত্রেই একই রকম। যেমন: বিলবোর্ডের আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে হবে। বিলবোর্ড স্থাপনে কোনোভাবেই জনসাধারণের বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না কিংবা পরিবেশের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিষয়টি আমি দেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌরসভার ওয়ার্ডের চেয়ে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলো বড় হয়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে দুটি করে রাখা গেলে ভালো হতো। কিন্তু আমরা যেহেতু চূড়ান্ত করে ফেলেছি, নতুন করে আচরণবিধিমালা আর পাঠাব না।

কাউন্সিলর কিংবা মেম্বার পদপ্রার্থীদের প্রচারণা সীমিত হলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটু তো সীমিত হয়েছে। আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। এখন আমরা আচরণবিধি আর পাঠাব না। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধিতে আরও যা আছে—

এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা : নির্বাচনি আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। এমএফএসে লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটার কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটারকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকছে না। বিধানটিতে ভোটারের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত