ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মেঝেতে রোগী, মাথার ওপর ঝুলছে মাল্টিপ্লাগ

মেঝেতে রোগী, মাথার ওপর ঝুলছে মাল্টিপ্লাগ

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের ভিড়। ফলে শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে শয্যা পেতে শুয়ে ছিলেন ১০ থেকে ১২ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে জন্ডিস আক্রান্ত এক রোগীর সঙ্গে ছিলেন দুই স্বজন। তাঁদের মাথার ওপর ঝুলছিল একটি মাল্টিপ্লাগ। সেখান থেকে আরও কয়েকটি মাল্টিপ্লাগে সংযোগ নিয়ে চলছে বৈদ্যুতিক পাখা, নেবুলাইজার। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মেডিসিন ওয়ার্ড ও রেডিওলজি ওয়ার্ডের মাঝখানে দেখা গেল এমন চিত্র। এটি মূলত হাসপাতালের চলাচল ও স্বজনদের অপেক্ষার স্থান। মেডিসিন ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড়গুণ হওয়ায় এভাবেই সেখানে সেবা দিতে হচ্ছে রোগীদের।

বেলা তিনটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, রেডিওলজি ওয়ার্ডে প্রবেশের আগে সামনে একটি বড় পিলার। সেখানে স্যালাইনের পাইপে বেঁধে একটি মাল্টিপ্লাগ টানানো হয়েছে। সেখান থেকে আরও কয়েকটি মাল্টিপ্লাগে সংযোগ নিয়ে মেঝেতে থাকা রোগীরা বৈদ্যুতিক পাখা ও নেবুলাইজার চালু রাখছেন। মূল মাল্টিপ্লাগের সংযোগ নেওয়া হয়েছে মেডিসিন ওয়ার্ডের ভেতর থেকে।

সরেজমিন সাতজন রোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, আগে থেকেই সেখানে মূল মাল্টিপ্লাগটি টানানো ছিল। তাঁরা বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহারের জন্য সেখান থেকে সংযোগ নিয়েছেন। মেঝেতে পাখা না থাকায় নিজেরাই বৈদ্যুতিক পাখা কিনে এনে ব্যবহার করছেন। বাইরে কোনো বৈদ্যুতিক বোর্ড না থাকায় ওয়ার্ডের ভেতর থেকে মূল মাল্টিপ্লাগের সংযোগ নেওয়া হয়েছে। একটি মাল্টিপ্লাগ থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছে আরেকটি মাল্টিপ্লাগে। সেখান থেকে চলছে বৈদ্যুতিক পাখা।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের বাইরে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীর স্বজনেরা না বুঝে এটি করেছেন। তাঁরা সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেরাই অবৈতনিক কর্মচারীদের কিছু টাকা দিয়ে সংযোগগুলো নিচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালে শয্যার তুলনায় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বেশি থাকে। ওয়ার্ডে রাখতে না পারলেও তাঁদের সেবা নিশ্চিত করতে হয়। রোগীর স্বজনেরা বিষয়টি না বুঝেই এভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেন। এতে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত