ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী

ঢাকা উত্তরে আসিফ দক্ষিণে পাটওয়ারী

ঢাকা উত্তরে আসিফ দক্ষিণে পাটওয়ারী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এরইমধ্যে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনসিপি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।

এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।

এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

গত ৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামী এখনও সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তার নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত