
দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি তরমুজ চাষের পাশাপাশি শসা ও টমেটো চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতায় তিনি এই তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন। হাবিবুর রহমান জানান, তিনি অফসিজন রঙিন জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করেন। জাতটির সর্বাধিক ফলন হয়েছে। ফলের ওজন ও আকার সবাইকে আকৃষ্ট করেছে। শুধু আকার নয় অসাধারণ মিষ্টি স্বাদেরও। বাজারে এর দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন বলে জানান। ২০ শতক জমিতে অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষে এখন পর্যন্ত তার ব্যয় হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর এখন পর্যন্ত উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকার। খেতে যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তাতে তিনি আরো ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে জানান। তিনি জানান- আরও ৭ জন এ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। আগামীতে তিনি ব্যাপকহারে এই জাতরে তরমুজ চাষ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।'
তার খেতের তরমুজ ফল দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ও কৃষকরা আসেন। তার কাছে আসা কৃষকরা তরমুজ চাষের কলাকৌশল জেনে আগামীতে তারাও চাষ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, 'আমি এই তরমুজের পাশাপাশি শসা ও টমেটো চাষ করছি। সেখান থেকে ভালো লাভ হবে আশা করছি। হাবিবুর রহমান বলেন বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনায় আজ বিভিন্ন ধরনের সবজি তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছি। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, এ জাতের তরমুজ খুবই সুস্বাদু, বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। কৃষকরা সঠিক দাম পেলে এই জাতের তরমুজ চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এ জাতের তরমুজ চাষ করার জন্য।