ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রথম সাত মাসে ৪জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ

প্রথম সাত মাসে ৪জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ

বাংলাদেশের টেলিকম বাজারে পুরোপুরি ৪জি সংযোগের দিকে একটি স্পষ্ট রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মোট ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির হার মূলত মোবাইল ইন্টারনেটেই কেন্দ্রীভূত এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের অগ্রগতি ধীরগতির হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ৪জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ ৩০ হাজার।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা যেখানে ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ, তা জুলাই মাসে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার বা ২.৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজারে।

তবে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে। এই খাতে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ৫৭.৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১.৬০ শতাংশ এবং মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার ৬৪.৮৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮.৭৯ শতাংশ হয়েছে। প্রযুক্তির এই রূপান্তরটি মূলত ৩জি ও ৪জি গ্রাহক সংখ্যার বিপরীতমুখী পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম জানান, তার প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালেই ৩জি সেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্ক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ৪জি ও ২জি সেবার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রবির প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক ৪জি সেবা ব্যবহার করছেন এবং বাকি গ্রাহকরা ২জি সেবার ওপর নির্ভরশীল। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত রবির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্রিয় ৩জি গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ২১ লাখ ২০ হাজার থেকে জুলাই মাসে ১০ লাখ ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, এই সাত মাসে ৩জি গ্রাহক কমেছে ১০ লাখ ৭০ হাজার বা ৫০.৪৭ শতাংশ। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের এখনো ৩জি সেবা চালু রয়েছে এবং ৩জি ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই এই দু'টি অপারেটরের গ্রাহক।

এর বিপরীতে, ৪জি গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৭.৪৩ শতাংশ (৮৪ লাখ ৩০ হাজার) বেড়ে জুলাই মাসে ১২ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৬.০২ শতাংশ বা ৭৭ লাখ ৬০ হাজার বেড়েছে। ফলে, গত জানুয়ারিতে ইন্টারনেট গ্রাহক যেখানে ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ছিল, তা জুলাইয়ে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ইন্টারনেট বিস্তার ৭৩.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির এই ধারা মূলত মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমেই চালিত হয়েছে, যার গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারির ১১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার থেকে জুলাই মাসে ১২ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর তুলনায়, আইএসপি ও পিএসটিএন-ভিত্তিক ফিক্সড ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার বেড়ে যেখানে ৬১.৬০ শতাংশ হয়েছে, তার বিপরীতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার গত জানুয়ারি মাসের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে জুলাই মাসে সামান্য বেড়ে ৮.৬৩ শতাংশ হয়েছে।

টেলিকম অপারেটর-ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি অপারেটরগুলোর গ্রাহক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২৬ লাখ ৮০ হাজার বেড়ে জুলাই মাসে ৮ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রবি আজিয়াটার গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৫ লাখ ৩০ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে বাংলালিংক তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার বাড়িয়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ থেকে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত করেছে। তবে, সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে; প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি মাসের ৬৮ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক থেকে ১০ হাজার গ্রাহক হারিয়ে জুলাই মাস শেষে ৬৮ লাখ ২০ হাজারে এসে ঠেকেছে। ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা মিলিয়ে সামগ্রিক টেলিডেন্সিটি জানুয়ারি মাসের ১০৫.৭১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে জুলাই মাসে ১০৭.৯৭ শতাংশ হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত