ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দাঁতের এনামেল ক্ষয়

দাঁতের এনামেল ক্ষয়

আজকাল যেকোনো ডেন্টাল ক্লিনিকে গেলেই আপনি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রোগীকে দাঁতের সংবেদনশীলতা, এনামেল ক্ষয় বা দাঁতের কিনারা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করতে দেখবেন। যে সমস্যাগুলোকে একসময় বার্ধক্য বা অবহেলার ফল বলে মনে করা হতো। তবে দন্তচিকিৎসকরা একটি ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করছেন। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২৭ শতাংশ দন্ত রোগীর দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে এবং এ সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ ক্ষতির বেশিরভাগই রোগীর অভ্যাসগত কারণে হচ্ছে— যত্নের অভাবে নয়। বরং আপাতদৃষ্টিতে যেগুলো ক্ষতিকর নয়, এমনকি আমাদের দায়িত্ব মনে হওয়া দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর নীরব পুনরাবৃত্তির ফলে।

অনেকের দিন শুরু হয় জোরালোভাবে দাঁত ব্রাশ করার মাধ্যমে, যা আমাদের কাছে যত্নের মতোই মনে হয়। কিন্তু জোরে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়- এই ধারণাটি একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করলে, বিশেষ করে শক্ত ব্রাশ দিয়ে, এনামেল ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। এনামেল হলো দাঁতের একটি পাতলা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর, যা দাঁতকে ক্ষয় ও সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে। পরিচ্ছন্নতার প্রতি যে প্রবল আগ্রহ সময়ের সাথে সাথে তা অপরিবর্তিত ক্ষয়ে রূপ নেয়। ক্ষয় দৃশ্যমান হওয়ার অনেক আগে থেকেই এনামেল দুর্বল হতে থাকে।

আধুনিক উচ্চমানের খাদ্যাভ্যাস অ্যাসিড ও চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়ের দিকে বেশি ঝুঁকেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিজি ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস, লেবুজাতীয় ফলের রস, চা, কফি এবং নানা ধরনের মিষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রতিটি চুমুক বা কামড় দাঁতকে এমন অ্যাসিডের সংস্পর্শে আনে যা ধীরে ধীরে এনামেল ক্ষয় করে দেয়।

যারা নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করেন, তারাও এই ধরনের খাবারের ক্ষতিকর সংস্পর্শের প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেন না। অ্যাসিডযুক্ত পানীয় পানের পর পানি দিয়ে মুখ ধোয়া বা স্ট্র ব্যবহার করার মতো সাধারণ অভ্যাসগুলো এর অ্যাসিড থেকে এনামেলের শক্তি রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

লালা হলো মুখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা অ্যাসিডকে প্রশমিত করে এবং এনামেলকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে। কিন্তু, ক্যাফেইন-নির্ভর ও দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় পানিশূন্যতা এই সুরক্ষাকে দুর্বল করে দেয়। অপর্যাপ্ত পানিপান এবং ঘন ঘন কফি বা অ্যালকোহল সেবনের ফলে লালার প্রবাহ কমে যায় এবং এনামেল অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সারাদিন শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখার মতো একটি সাধারণ বিষয়ও দাঁত সুরক্ষিত রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়, অথচ প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত