
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। তিনি গুম ও খুন হওয়া স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। পক্ষান্তরে তার ভিতরেই লুকিয়ে থাকতো গুম-খুনে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গতকাল শনিবার লালমোহনের নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন, তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন আসলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন। জনগণ তখন বুঝতে পারেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও নিজেই ছিলেন গুম-খুনের নির্দেশদাতা। তিনি বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। কতবড় নির্মম ও জঘন্যতম কাজ করা হয়েছে তার সঙ্গে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যারিস্টার মুক্ত হয়ে এবার সংসদ সদস্য হয়েছেন।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় উপজেলা অডিটোরিয়ামের এ সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি পর্দার দাম ধরেছে ৪২ হাজার টাকা। তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী যার লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলোর কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত লীগ সরকারের সময় এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তখনকার সময়ে আমার নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ভোলা-৪ আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারিনি।