ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

ঝিনুক-কোরাল চাষে সফলতা অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

সমুদ্র শুধু মাছ আহরণের উৎস নয়, বিকল্প জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্রও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ভাসমান ভেলার মাধ্যমে সবুজ ঝিনুক ও সামুদ্রিক কোরাল মাছ চাষ হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি স্থানীয় বেকার যুবকদের বিকল্প আয়ের পথ দেখানোর পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর মোহনা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ভাসমান ভেলার এই খামার। বাঁশ, দড়ি ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান কাঠামোর নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সবুজ ঝিনুকের বীজ। জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক স্রোত ও নোনাজলের অনুকূল পরিবেশে অতিরিক্ত কোনও প্রযুক্তি ছাড়াই বেড়ে উঠছে ঝিনুক।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যেই ঝিনুক বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। দেশে পুষ্টিকর সামুদ্রিক খাদ্য হিসেবে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই ভাসমান কাঠামোর সঙ্গে জালের খাঁচা তৈরি করে চাষ করা হচ্ছে উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক কোরাল মাছ। বড় আকারের এসব খাঁচায় কোরাল মাছের পোনা ছাড়া হয়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যেই মাছগুলো বিক্রিযোগ্য আকার ধারণ করে। বাজারে কোরাল মাছের তুলনামূলক বেশি দাম থাকায় এ খাতেও লাভের সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা। সবুজ ঝিনুক চাষি আনোয়ার মিয়া বলেন, ২০১৮ সালে সর্বপ্রথম সবুজ ঝিনুক (গ্রিন মাসেল) ভাসমান ভেলায় চাষ শুরু করি। এতে প্রতি বছরই লাভের মুখ দেখেছি। ব্যাপক সফলতা এসেছে। প্রচলিত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতার পাশাপাশি এ ধরনের আধুনিক চাষাবাদ বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আবহাওয়া বা মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার কারণে যখন সমুদ্রে মাছ ধরা সম্ভব হয় না, তখন এই ভাসমান খামারগুলো বিকল্প জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

আরেক চাষি শহীদুল ইসলাম বাবু বলেন, আগে আমরা মূলত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা এলে আয় বন্ধ হয়ে যেতো। এখন ভাসমান ভেলায় ঝিনুক ও কোরাল মাছ চাষ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষ আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব। একই সফলতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় চাষি মং ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় কিছুটা ভয় ছিল। কিন্তু আইডিএফের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় এখন সফলভাবে ঝিনুক ও কোরাল চাষ করছি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। আরও সহজ শর্তে ঋণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা পেলে অনেক নতুন উদ্যোক্তা এ খাতে এগিয়ে আসবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত