ঢাকা রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণকে অপমান করা হবে

বললেন জামায়াত আমির
গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণকে অপমান করা হবে

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ব?লেন, জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা মানে জনগণকে অপমান করা। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গতকাল শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দেওয়া ওয়াদা তারা ভুলে গেলেন। জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা তারা রক্ষা করলেন না। ওয়াদার বরখেলাপ করলেন। তিনি বলেন, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন না। আমি জাস্ট আপনাদেরকে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে বলতে চাই, সত্তর সালে এ ভোটের রায়কে অমান্য করার জন্যই কিন্তু যুদ্ধ হয়েছিল।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান দফায় দফায় ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য, ভোটের রায় মেনে নেওয়ার জন্য। পরবর্তী?তে যুদ্ধ হ?য়ে?ছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার অধিকার, শক্তি আমাদের কারো নাই। এটি করলে জনগণকে অপমান করা হবে। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলা নিয়ে নেমেছি। তিনি ব?লেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫৫ বছর পার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি জাতির জন্য এই সময় নেহাত ছোট নয়।

মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বিশ্বে তার নিজস্ব জায়গা দখল করে রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান মাত্র তিন বছরের মাথায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে সুইচ ওভার করতে সক্ষম হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানি শাসক ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে শোষণ করেছেন এবং ব্যবসা করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর এসব সম্পত্তি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে আসে।

আদমজী জুট মিলকে বিশ্বের বৃহত্তম জুট ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে কি? আজকে আদমজীর নাম-নিশানাও মিটে গেছে। নাই, কিচ্ছুই নাই। স্বাধীনতার পরে সবকিছু হরিলুট! এখন একটা শিল্প পার্ক করা হয়েছে, কিন্তু সেই আদমজীর গৌরব ফিরে আসেনি। বাওয়ানী, সপাহানীসহ তৎকালীন ব্যবসায়ীদের বড় শিল্প-স্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এরইমধ্যে কিছু শিল্প-স্থাপনা গড়ে উঠেছে, তবে তা যথেষ্ট নয়।

শিল্পের মূল শক্তি বিদ্যুৎ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস, তেল ও সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। তবে বাংলাদেশ বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি এবং শিল্পে এর মারাত্মক আঘাত এসেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত