
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের নির্ভরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না, সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত 'এনহ্যান্সিং সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাবিলিটি অব ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফিসিয়ালস' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির (IFSCS) উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্যই আমরা 'ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার' স্থাপন করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে অ্যাপেক্স বডি হিসেবে আমরা সারাদেশে সংশ্লিষ্টদের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে চাই। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বের আসনে থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা মনে করি, প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে নিরাপদ ও আধুনিক করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বৃহৎ শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনা করে। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অধিভুক্ত কলেজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তথ্য আদান-প্রদান ও ডিজিটাল যোগাযোগের প্রয়োজন হয়। ফলে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনিক দক্ষতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ড. আমানুল্লাহ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব নয়; প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে শুরু করে সন্দেহজনক লিংক বা ই-মেইল শনাক্ত ও বর্জন করা, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ— প্রতিটি বিষয়ই প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের আইনগত কাঠামো নিয়ে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে 'Protecting Your Devices and Network Systems from Security Threats' বিষয়ে মূল আলোচক ছিলেন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাইবার ফরেনসিক প্রসিকিউটর, বিইউবিটির সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা।