ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও গতিশীল করার আশা

সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও গতিশীল করার আশা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত। এ সময় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে ফ্রান্সের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে উভয় দেশের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততাসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় বাংলাদেশে ফ্রান্সের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শার্লে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গণতান্ত্রিক সংস্কারে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহের কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে, অব্যাহত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত