ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গর্ভাবস্থায় গ্রিন টি খাওয়া

গর্ভাবস্থায় গ্রিন টি খাওয়া

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার সম্ভাব্য উপকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গর্ভাবস্থায় এটি পান করার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করা যায়, কিন্তু এ সময়ে এর বিশেষ স্বাস্থ্যগত উপকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ক্যাফেইন নিয়ে সতর্কতা : গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকে। চায়ের ধরন, পরিমাণ ও তৈরির পদ্ধতির ওপর এর মাত্রা নির্ভর করে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) গর্ভবতী নারীদের দৈনিক মোট ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়। গ্রিন টি ছাড়াও সাধারণ চা, কফি, কোমল ও এনার্জি ড্রিংকস, চকোলেট এবং কিছু ওষুধে ক্যাফেইন থাকতে পারে। তাই সব উৎস থেকে দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণের হিসাব রাখা জরুরি।

ক্যাফেইন প্ল্যাসেন্টা অতিক্রম করে শিশুর শরীরে পৌঁছাতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে কম ওজনের শিশু জন্ম, গর্ভপাতসহ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে গ্রিন টি পান করলেই এমন সমস্যা হবে।

ফোলেট শোষণে প্রভাব : গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের প্রাথমিক গঠন, অর্থাৎ নিউরাল টিউব তৈরির জন্য ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফোলেটের শোষণ ও বিপাকে প্রভাব ফেলতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে ২০২২ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনা ও ডোজ-রেসপন্স মেটা-বিশ্লেষণে চা পানের সঙ্গে নিউরাল টিউবের জন্মগত ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গ্রিন টি পান করলে এমন ত্রুটি হয়—এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।

যা করবেন : গর্ভাবস্থায় গ্রিন টি পান করতে চাইলে পরিমিত পরিমাণে পান করুন। দৈনিক মোট ক্যাফেইন গ্রহণ ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে রাখুন এবং ফোলেটের প্রয়োজনীয়তা পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুন। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে গ্রিন টি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণে সচেতন থাকুন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত