ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুদক দিয়ে বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে

বললেন নাহিদ ইসলাম
দুদক দিয়ে বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারকে সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। 'বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন। বাংলাদেশে এখনও মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে। মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বিগত সাত মাসে কোনো গুম হয়নি। মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী জানে। মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে তিনি বলেন, পরিবারটি প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের নামে কটূক্তি করে গাজী সালাহউদ্দিন ভুল করেছিলেন এবং দল হিসেবে এনসিপি তা সমর্থন করেনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া বা মিম করা সন্ত্রাস নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানাই।

হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি বাহিনী তদন্ত করবে। একই সঙ্গে অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব গুম হয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আর এখন তারা সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দিচ্ছে না। মানবাধিকার কমিশনকে 'সরকারি মানবাধিকার কমিশনে' পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। গুমের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জাতিসংঘে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন। তিনি আরও বলেন, আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।

পুলিশ সংস্কার কমিশন না করে পুলিশকে বিরোধীদল দমনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে; সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা বলেন, অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন। সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সেসব আইন সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত