ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যাত্রী নেই পিংক বাসে, দিনে লোকসান ৬০ হাজার টাকা

যাত্রী নেই পিংক বাসে, দিনে লোকসান ৬০ হাজার টাকা

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ১৮ আগস্ট চালু হওয়া বিআরটিসির 'পিংক বাস' সেবা চালুর এক মাসের মাথাতেই চরম যাত্রীখরার মুখে পড়েছে। সময়সূচির সাথে অফিস-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির অমিল এবং অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনার কারণে ৭৫ আসনের বিশাল দ্বিতল বাসগুলোতে গড়ে ১৫ জনের বেশি যাত্রী মিলছে না।

কোনো কার্যকর মাঠ-গবেষণা ছাড়াই চালু করা এই প্রকল্পের কারণে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাটিকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান প্রকল্পটির করুণ দশা তুলে ধরে। গত ২৭ ও ৩০ আগস্ট সংস্থাটির ১০টি ডিপো থেকে ১৪টি বাস মোট ৩০টি ট্রিপ পরিচালনা করে। দুই দিনে ১ হাজার ৭৯২টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয় মাত্র ২৭ হাজার ৪২ টাকা। বিপরীতে জ্বালানি, টোল ও কর্মচারীদের বেতন মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৯ টাকা। অর্থাৎ, দুই দিনেই লোকসান ১ লাখ ২২ হাজার ১০৭ টাকা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসে যাত্রীসংখ্যা সামান্য বাড়লেও আয়ের গ্রাফে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৩টি বাসের বিপরীতে বাসপ্রতি গড় আয় ছিল মাত্র ১ হাজার ১৪৭ টাকা। পিংক বাসের এই যাত্রীখরার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সেবার সময়সূচি ও কাঠামোগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন যাত্রীরা। বাসগুলো সকালে ও বিকালে শুধু একবার নির্ধারিত রুটে যাতায়াত করে। বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছাড়া বাস যখন মিরপুর পৌঁছায়, তখন বাজে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট। ততক্ষণে অফিস ছুটির আসল যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ডে এসে অন্য বাসে উঠে পড়েন।

যানজটের কারণে বাসের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক থাকছে না। অ্যাপভিত্তিক লাইভ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা যাত্রীদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একবার বাস মিস করলে সাধারণ বাসেই তাদের ফিরতে হচ্ছে। দিনে একবার বিশাল দ্বিতল বাস চালানোর বদলে যাত্রীরা একই খরচে একাধিক মিনিবাস চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ব্যস্ত সময়ে ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

ঢাকায় নারীদের জন্য বিশেষায়িত বাস চালুর এটি প্রথম ঘটনা নয়, বরং চতুর্থবারের মতো নেওয়া অপরিকল্পিত উদ্যোগ। এর আগে ১৯৯৮, ২০০৯ এবং ২০১৮ সালেও (দোলনচাঁপা) একই ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবারই যাত্রীস্বল্পতা ও লোকসানের মুখে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। অতীতের তিনবারের ব্যর্থতা থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়েই এবারও একই মডেলে প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান এটিকে পুরোপুরি অপরিকল্পিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এর আগে নারীদের বাস সেবা যেসব কারণে ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে যথাযথ গবেষণা করা উচিত ছিল। রুটিনমাফিক চমক দেখাতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের করের টাকার এই ধারাবাহিক অপচয় বিআরটিসির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত