ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

১০ হাজারে উন্নীত হচ্ছে কোস্ট গার্ডের জনবল

১০ হাজারে উন্নীত হচ্ছে কোস্ট গার্ডের জনবল

দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাহিনীটির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন করে ৪ হাজার ৬১০টি পদ সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন পদ সৃজন ও জনবল বাড়ানোর বিষয়টি কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কোস্ট গার্ডের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। সভায় বাহিনীটির সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন ও প্রস্তাবিত ৪ হাজার ৬১০টি পদ সৃজনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার, চুক্তি অক্টোবরে : এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ডকে ১০ হাজার জনবলে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে পদ সৃজন বা জনবল বাড়ানোর বিষয়টি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রণালয় কতটুকু অনুমোদন দেয় এবং কত ধাপে জনবল বাড়ানো হবে সেটিও পরবর্তী প্রক্রিয়ার বিষয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাহিনীটির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন পদগুলো অনুমোদিত হলে বাহিনীটির জনবল বাড়ানোর পথ তৈরি হবে। তবে এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তিন দশকে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম : ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড গঠনের আইনি ভিত্তি প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীটির গোড়াপত্তন হয়। একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত তিন দশকে দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাহিনীটির কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে চারটি জোনের অধীনে ৬৩টি স্টেশন ও আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের ২১টি উপকূলীয় জেলায় দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড।

উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর নিরাপত্তা ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষায় কাজ করছে বাহিনীটি। পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, জলদস্যুতা দমন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' ও 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা ও পর্যটকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে বাহিনীটি। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ডের জনবল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত