
আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— ভবিষ্যতের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার। দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলো দিনব্যাপী উৎসব, সেমিনার ও মিলনমেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পীদের সবচেয়ে বড় পেশাদার সংগঠন 'শেফ'স ফেডারেশন অব বাংলাদেশ' (সিএফবি) বনানীর হোটেল শেরাটন ঢাকায় মেগা ইভেন্টের আয়োজন করছে। এ প্রসঙ্গে সিএফবি-এর সভাপতি শেফ জহির খান বলেন, আন্তর্জাতিক শেফ দিবস আমাদের জন্য শুধু উদযাপনের দিন নয়, এটি আমাদের পেশাদারিত্ব ও রন্ধন সংস্কৃতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন। এবার আমাদের মূল লক্ষ্য—'এক কালিনারি পরিবার, এক বৈশ্বিক সমাজ এবং একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ'। আমরা আমাদের তরুণ ও শিক্ষানবিস শেফদের এমনভাবে মেন্টরশিপ দিতে চাই, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।
সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা এবং ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাকাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের দ্রুত বিকাশের মূল চালিকাশক্তি হলেন আমাদের শেফরা। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ : এবারের শেফ দিবসের সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর নিয়ে এসেছে দেশের রন্ধন খাতের শীর্ষ সংগঠন 'বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন' (বিসিএফ)। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব রন্ধনশিল্পের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফ'স সোসাইটিজের (ওয়ার্ল্ডশেফ) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে বাংলাদেশি শেফদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও বিশ্বমঞ্চের প্রতিযোগিতায় সরাসরি অংশ নেওয়ার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
লে মেরিডিয়ান ঢাকায় শেফ দিবসের আয়োজন উপলক্ষে বিসিএফ-এর সভাপতি শহীদুল শাহীন বলেন, আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে এবার আমরা ওয়ার্ল্ডশেফসের অফিশিয়াল জাতীয় সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। ওয়ার্ল্ডশেফ সার্টিফাইড মাস্টার শেফ এবং বিসিএফ-এর প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান বলেন, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শেফদের পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের শেফদের নিয়ে কাজ করা পর্যটন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ খালেদ সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক শেফ ডে উপলক্ষে আমাদের ভাবা উচিত কীভাবে বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পীরা আমাদের পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে রয়েছে অফুরন্ত স্বাদের বৈচিত্র্য। আমাদের ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি, সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস, হরেক রকমের পিঠা আর ইলিশের নানা পদ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করতে পারে।
বাংলাদেশের শেফরা শুধু রান্না করেন না, তারা একেকজন আমাদের সংস্কৃতির দূত। তারা যদি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আমাদের স্থানীয় উপাদানগুলোকে আধুনিক ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে বিশ্ব দরবারে 'বাংলাদেশি কুজিন' একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আমাদের শেফদের জন্য আরও উন্নত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা দরকার। শেফদের হাতের জাদুতেই গড়ে উঠতে পারে আমাদের দেশের 'কালিনারি ট্যুরিজম' বা খাদ্য-ভিত্তিক পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত।
দিনব্যাপী কর্মসূচি : সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শেফদের ঐতিহ্যবাহী শুভ্র জ্যাকেট ও হ্যাট পরিহিত বর্ণাঢ্য র্যালি বের হবে। এরপর দিনব্যাপী থাকবে— মাস্টারক্লাস ও লাইভ কুকিং ডেমোনেস্ট্রেশন (যেখানে পুষ্টিগুণ বজায় রেখে রান্নার আধুনিক কৌশল দেখানো হবে)। ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও ইনস্পিরেশনাল সেশন। রন্ধনশিল্পে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবীণ ও বিশিষ্ট্য শেফদের বিশেষ সম্মাননা ও লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড প্রদান।