
দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন নিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী 'কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল'। শুক্রবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্টে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ বর্ণাঢ্য উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটার অনন্য রূপ ও পর্যটন শিল্পকে ব্যাপকভাবে তুলে ধরাই এ কার্নিভালের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রকল্পটি আগামী ৩ নভেম্বর একনেক সভায় উঠবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাতায়াতে এক বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী বলেন, বর্তমান সরকার কুয়াকাটাকে একটি পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান কুয়াকাটার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কুয়াকাটা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। এ অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন কর্পোরেশন কুয়াকাটায় মানসম্মত আবাসন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করছে।
কার্নিভালের প্রথম দিন সকাল থেকেই স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সৈকতজুড়ে একে একে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিচ ক্রিকেট, বিচ ভলিবল এবং ম্যারাথন রান। বিকালের দিকে লেবুর বনে আয়োজিত হয় মনোমুগ্ধকর ঘুড়ি উৎসব ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
সন্ধ্যায় পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমেডি শো, সৈকত ফ্যাশন শো এবং ঐতিহ্যবাহী বাউল গানসহ তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে লাইভ মিউজিক কনসার্ট। এ ছাড়া আগত দর্শনার্থীদের জন্য সৈকতে বসেছে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠার হরেক রকম স্টল।
টানা সরকারি ছুটি এবং দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত এ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটকের ঢল নেমেছে। কুয়াকাটার প্রায় শতভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট আগেভাগেই বুকিং হয়ে গেছে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ এবং থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে মাল্টি-লেয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কাল সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি 'ক্লিন কুয়াকাটা'-এর মাধ্যমে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।