ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অপ্রতিম হত্যা মামলা

দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয় বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। অভিযোগপত্রে উল্লেখ সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ দুই কিশোরকে সরাসরি হত্যায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে রাখা হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, সেদিন বিকালে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে অন্য দুই কিশোর বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার বাসা থেকে অপ্রতিমের মোবাইলও উদ্ধার করা হয়। এবং তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়। মামলার বাদী অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, 'ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত