
এবারের দুর্গাপূজায় দেশের কোথাও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশজুড়ে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোনো হিন্দু এবারের পূজায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি। গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে মিল্টন বৈদ্য বলেন, বিগত দিনে যারা নিজেদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের 'পরম বন্ধু' বলে দাবি করতেন, তা শুধু মুখের কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাস্তবে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার' এই উক্তিটি শুধু কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল না, বরং তিনি কাজের মাধ্যমে এর যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। এবারের পূজায় সনাতন ধর্মের মানুষ বিন্দুমাত্র নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেননি, যা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে যে পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিল, সরকার সেই বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বজনীন আনন্দের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার ছুটি বৃদ্ধি করেছে। আমরা এবার পাঁচ দিন ছুটি পেয়েছি। ফলে সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সাথে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে সরকার প্রধানেরা ঢাকায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সনাতন ধর্মের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজখবর নেওয়ার এই আন্তরিক অভিভাবকসুলভ উদ্যোগ পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
পূজার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে মিল্টন বৈদ্য বলেন, পূজায় সরকার তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করেছে।