
গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জেসটেশনাল ডায়াবেটিস মেলিটাস বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। ফলে পরীক্ষা না করালে অনেক নারী বুঝতে পারেন না যে তাদের রক্তে শর্করা বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমা আক্তার।
যারা ঝুঁকিতে : অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা। পরিবারের নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিসের ইতিহাস। মায়ের বয়স ২৫ বছর বা বেশি। শারীরিক পরিশ্রম ও নিয়মিত হাঁটাচলার অভাব। আগের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ইতিহাস বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার ইতিহাস। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এবং প্রি ডায়াবেটিসের ইতিহাস। তবে এসব ঝুঁকির কোনোটি না থাকলেও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে।
যখন পরীক্ষা করাবেন : গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। তবে ঝুঁঁকি বেশি থাকলে চিকিৎসক প্রথম সাক্ষাতেই রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।
চিকিৎসা : চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ নারী সুস্থভাবে গর্ভাবস্থা পার করতে পারেন। প্রথম ধাপে সাধারণত সুষম খাবার, খাদ্যগ্রহণে শৃঙ্খলা, নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত গ্লুকোমিটারের সাহায্যে রক্তের শর্করা মেপে ফলাফল লিখে রাখা এবং মা ও শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ইনসুলিন : ইনসুলিন গর্ভাবস্থায় রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের একটি নিরাপদ চিকিৎসা। ইনসুলিনের কথা শুনে অনেকে ভয় পেয়ে যান। কেউ কেউ মনে করেন, ইনসুলিন নিলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে বা সন্তান জন্মের পর শিশুর ডায়াবেটিস হবে। এসব ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
শর্করা নিয়ন্ত্রণ : মায়ের রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শিশুর অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, প্রসবকালীন জটিলতা এবং জন্মের পর শিশুর রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-একলাম্পসিয়া, গর্ভে পানির তারতম্য বা গর্ভস্থ শিশুর আকস্মিক মৃত্যু ঘটতে পারে।
সন্তান জন্মের পরও সতর্কতা জরুরি : প্রসবের পর অনেক নারীর রক্তের শর্করা স্বাভাবিক হয়ে আসে; কিন্তু এদের ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সন্তান জন্মের ৪-১২ সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় গ্লুকোজ পরীক্ষা করা উচিত।