
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা পুনর্বিন্যাস ও পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে, যাতে অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, ‘তালিকায় প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য তালিকাগুলো সংশোধন, পুনর্বিন্যাস এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উপকারভোগীদের পুনরায় যাচাই করতে হবে। আমরা এরইমধ্যে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি।’ প্রতিমন্ত্রী আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর ওই সংসদ সদস্য জানতে চান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো চালু করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে উপকারভোগীর তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের স্বজনপ্রীতি দেখা দেয়। তিনি জানান, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা পর্যালোচনা ও যাচাই করতে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তালিকাগুলো সঠিকভাবে পুনরায় যাচাই করা যায় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা কার্ড ও সুবিধা পেতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। এজন্য আমাদের আন্তরিক থাকতে হবে, যাতে প্রকৃত মানুষই ভাতা পান।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান উপকারভোগীর তালিকা পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃতভাবে কারা এসব কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তা নির্ধারণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রস্তুত করা বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকাও অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এভাবে সমস্যার সমাধানের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ক্ষেত্রে যে অনিয়ম রয়েছে, তা দূর করে সমাধানের পথে এগোতে আমরা বিভিন্ন মহল থেকে মতামত নিচ্ছি।’
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো খাত এখনও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় না এলে এবং সেটি উপযুক্ত মনে হলে তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো যায়।
ফারজানা শারমীন আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বজনপ্রীতি পরিহার করে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো সম্প্রতি চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।