
বকেয়া পৌরকর আদায়ে ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফের বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। ডিএসসিসির বাজার ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে করপোরেশনের মালিকানাধীন মার্কেট কমিটির সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন এবং করদাতাদের বকেয়া পৌরকর পরিশোধে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করলে আরোপিত ১৫ শতাংশ সারচার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। করদাতারা এই সুযোগ গ্রহণ করে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ছাড়াই তাদের বকেয়া কর পরিশোধ করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় মার্কেট প্রতিনিধিরা দোকানের ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা, মার্কেটের সামনে হকারদের অবৈধ অবস্থান, আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অবৈধ দখলসহ মার্কেট পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। ডিএসসিসি প্রশাসক মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন,? ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে নাগরিক সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে, তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।
অনিয়ম ও অবৈধ স্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আপনারা নিয়ম মেনে সহযোগিতা করুন, সিটি কর্পোরেশনও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আপনারা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন এবং কর্পোরেশনও তার প্রাপ্য রাজস্ব পাবে। একজনকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না, বৈধতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।