ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরও সক্রিয় হতে হবে : মির্জা ফখরুল

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরও সক্রিয় হতে হবে : মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আরও পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জগুলো বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। শুধু সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের পক্ষে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারব।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করা হলে মানুষ নিয়ম মেনে চলে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষম ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা দূর করা সম্ভব।

সমন্বয় বাড়াতে তিনি রাজউক, ঢাকা ওয়াসা, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সব নগর উন্নয়ন সংস্থাকে একটি একক আইনি কাঠামোর অধীনে আনার প্রস্তাব করেন।

তিনি আরও জানান, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ঢাকা উত্তরের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণের মাতুয়াইলে দুটি ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এছাড়া আগামী প্রজন্মকে নাগরিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করতে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ শুধু সরকারের পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগগুলোকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অন্যান্যের মধ্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত