
জমে উঠেছে মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। মেলার স্টলগুলোতে বৃক্ষপ্রেমিদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে স্টলগুলো। কেউ কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় আসছেন পছন্দের গাছের চারা কিনতে। বেচাকেনাও মোটামুটি বাড়ছে। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, মেলায় এখন পর্যন্ত ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮ হাজার ৫৮৪টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭০ টাকা। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। ১১ জুলাই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টিসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় স্টলগুলোতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল সরব। সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও অধিকাংশরা মেলায় এসেছেন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখতে। তবে মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ তার প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ঘুরতে। বিভিন্ন স্টলগুলোতে ক্রেতা ও স্টল মালিকরা যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেলায় আসা রূপসা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপালী নার্সারির মো. আল-আমিন খাঁ বলেন, মেলায় ক্রেতারাদের উপস্থিতি বেশ ভালো।
তাদের নার্সারীতে বারি ফুট, রেট ক্রিস্টাড জাতের আমের চারা, ভিয়েতনামী জাতের মাল্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রয়েছে। মেসার্স নাজিফা নার্সারির মো. সাকিবুল হাসান বলেন, তার স্টলে শোভাবর্ধণকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। নিজাম নার্সারির মো. নিজাম শেখ বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। বেচাকেনাও ভালো হবে। তার স্টলে থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উঠানো হয়েছে। কুসুম কানন নার্সারি মো. জাকির হোসেন, গোলাপ কানন নার্সারির শেখ মো. আলাউদ্দিন, অনি নার্সারির মো. রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নার্সারির মো. আব্দুল মালেক, মেসার্স মৌসুমী নার্সারির গাজী কামরুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক কেনাবেচায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিক্রি বাড়বে।
নার্সারী মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টলগুলো পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ নার্সারীতে পানি জমে থাকায় ফলদ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী গাছের চারা স্টলে উঠাতে বিলম্ব হয়। তবে বর্তমানে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ নার্সারিতে সব ধরনের চারা শোভা পাচ্ছে।
খুলনা বৃক্ষমেলার আব্দুল করিম নার্সারির স্টলের সাকিব বলেন, এবারের মেলায় জাপানের পার্সিমন গাছের চারা নিয়ে এসেছি।