
কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর বাজারের লাইফ লাইন খ্যাত একমাত্র পানি নিষ্কাশনের খাল ?‘বলদা খাল’। গোমতী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি দিয়ে পণ্য পরিবহন হতো দাউদকান্দি পৌর বাজারে। নৌকা নিয়ে বাজারে আসতেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এটার স্বচ্ছ পানি ব্যবহার এমনকি গোসলও করতেন খালপাড়ের বাসিন্দারা। বন্যা বা ভারী বর্ষণ হলেও দ্রুত খালটি দিয়ে পানি নিষ্কাশন হওয়ার ফলে পৌর বাজারটি থাকতো নিরাপদ।
কিন্তু বর্তমানের চিত্র ভিন্ন। একসময়ের ছলছল পানিতে ভরপুর খালটি প্রায় মৃত। যে পথে নৌকা চলতো সে পথটি এখন ময়লার ড্রেনের মতো হয়ে গেছে। দীর্ঘ বছরে দখল, দূষণ আর ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে খালটি। একটু ভারী বর্ষণ হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ময়লা-আবর্জনা থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু। বাড়ছে পোকামাকড় ও মাশা-মাছির উপদ্রুপ। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোমতী নদীর নছরুদ্দী থেকে উৎপত্তি হয়ে খালটি দৌলদ্দী, মাইজপাড়া, সহাপাড়া হয়ে দাউদকান্দি পৌরবাজারের মডেল থানা ও ভূমি অফিসের সামনে পুকুরটির সঙ্গে মিলিত হয়েছিল। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় চার কিলোমিটার। খালটি দিয়ে নৌকাবোঝাই মালামাল নিয়ে বাজারে আসতেন দাউদকান্দি দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে বর্তমানে ভরে গেছে লতাণ্ডপাতায়। কোথাও সংকুচিত কোথাও ময়লার স্তূপ পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রানা সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। একসময়ে উপকারী খালটি এখন স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ। এটি সংস্কারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।’ বাজারের ব্যবসায়ী আরমান চৌধুরী রবিন বলেন, ‘বলদা খালটি আমাদের পৌর বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমানে দখলে-দূষণে ভরাট। এটি পুনঃখননের দাবি জানাই।’ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. বিল্লাল হোসেন (খন্দকার সুমন) বলেন, ‘বলদা খাল দাউদকান্দির পানি নিষ্কাশন এবং পানি প্রবাহের অন্যতম একটি মাধ্যম ছিল। একটা সময়ে আমরা এখানে সাঁতার কাটতাম। জোয়ার ভাটার পানি আসতো। সময়ের বিবর্তনে দখলে-দূষণে এটি বেদখল হয়ে যায়। তবে খালটি উদ্ধারের মাধ্যমে একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান হিসেবে এলাকাবাসীকে উপহার দেওয়াসহ খালের দুপাশে ওয়াক ওয়ে করার পরিকল্পনা আছে।’
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের প্রিন্সিপাল মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার কলেজের সামনে দিয়ে খালটি চলে গেছে। খালে এখন আর জোয়ার আসে না। ময়ল-আবর্জনায় ভরা। নাক চেপে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে হয়। এটা দ্রুত খনন করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে কয়েকবার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। খুব শিগগির উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’