
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় সংগঠিত ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় ৪৮ লাখ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথরোধ করে এই অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর র্যাবের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিতে এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির নেপথ্যের সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ডাকাত দলের সদস্য কাওসার গাড়িতে তেল তোলার কাজে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যাওয়া-আসার সুবাদে সেখানকার এক কর্মীর মাধ্যমে একটি বড় অংকের টাকা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে পারে।
ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়ে উইং কমান্ডার বলেন, পূর্বে কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় জেলে থাকাকালীন সময়ে ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত হাকিমের সঙ্গে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তারা ডাকাতির পুরো পরিকল্পনা তৈরি করে। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ গত ২ আগস্ট মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, কাওসার ও ডাকাতি বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা একসঙ্গে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যায় এবং পুরো এলাকাটি নিখুঁতভাবে রেকি করে। মাঠপর্যায়ে এই ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য হাকিম ও কাওসার ছাড়াও আরও সাতজন জড়িত ছিল। যাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে করে সরাসরি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে এবং ফিলিং স্টেশনের কাছে একজন তথ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত থাকে। ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মুস্তাফিজ নামের ওই তথ্যদাতা ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা নিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়ি রওনা দিয়ে দিয়েছে এই তথ্যটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে বাকি ডাকাত দলকে জানায়।