
রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাই কোর্ট।
বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে গতকাল রোববার এ রায় ঘোষণা করে। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মো. মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং জেএমবি সদস্য মো. লিটন মিয়া ওরফে রফিক। হাই কোর্টে খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আতিকুল ইসলাম সেলিম ও অ্যাডভোকেট শফিক। কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরীফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ ২০১৬ সালের ৩ জুলাই জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রীসহ ১৪ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৭ সালের ১৬ অগাস্ট রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ তিনি রায় ঘোষণা করেন, তাতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেনকে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায়ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।