ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

'দেশের নষ্ট রাজনীতি কখনোই আতাউস সামাদকে স্পর্শ করতে পারেনি'

'দেশের নষ্ট রাজনীতি কখনোই আতাউস সামাদকে স্পর্শ করতে পারেনি'

দেশের নষ্ট রাজনীতি কখনোই সাংবাদিক আতাউস সামাদকে স্পর্শ বা প্রভাবিত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

তিনি আরও বলেন, 'সাংবাদিক আতাউস সামাদ কী করবেন, তা উনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতেন। কেউ ওনাকে দিয়ে কোনো কিছু করাবে- এমন অবস্থা কারও ছিল না। দেখতে খুব নরম-সরম মানুষ হলেও উনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ছিলেন। যেটা মনে করতেন, সেটাই করতেন। সেই পথ থেকে তাকে সরানো যেত না।' গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

এসময় রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের এবং মেধাবীদের হাতে ফিরিয়ে আনার জন্য সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, 'আজকে আমরা একটা নষ্ট রাজনীতির মধ্যে আছি। এতদিনেও রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীনতার সময় থেকেই বিচ্যুতি ঘটছে। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করার কথা সাংবাদিকদের। কিন্তু চলার পথে আপনারাও (সাংবাদিকরা) সেই রাজনীতির সংক্রামক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার কারণে সমাজ ও গণতন্ত্র যতটা বিকশিত হওয়ার কথা ছিল, তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।' তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশ আবার একটি গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছে। এখানে অনেক ভুলত্রুটি থাকবে, তবুও ফাইনালি চেষ্টা করতে হবে, যাতে এই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে পারি এবং সরকারের পরিবর্তন যেন নিয়মতান্ত্রিক পথেই নিশ্চিত হয়।'

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, 'সাংবাদিকতা বা সমাজ গঠনে রাষ্ট্রের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো সংবাদ ও সাংবাদিকতা। সেখানে আতাউস সামাদের মতো এই ধরনের মানুষ খুব বিরল, কিন্তু থাকাটা খুব জরুরি। যেমনি এখন একজন আছেন 'আমার দেশ' সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাহেব।' তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা মানুষকে যা তৈরি করেছেন, তার মেধাটা সেভাবেই দিয়েছেন যে, তিনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাআলা প্রকৃতির প্রয়োজনে সমুদ্র, নদী, বাঘ, কেঁচো সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। ঠিক তেমনি মানব সভ্যতার জন্য মানুষের মধ্যেও ভাগ করে দিয়েছেন কে রাজনীতিবিদ হবেন, কে প্রকৌশলী হবেন, কে সাংবাদিক হবেন, কে ডাক্তার হবেন। যখন আমরা সেটা না মেনে অন্য ক্ষেত্রে যাই, তখনই সমাজে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।'

আবদুস সালাম বলেন, 'প্রকৃতির ওপর হাত দিলে যেমন প্রকৃতি উল্টো আঘাত করে, ঠিক তেমনি ক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব পড়ে। আজকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ক্ষতি সম্পর্কে বলব যে, সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকা দরকার, যাদের সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে নিজের ক্ষেত্র থেকে সমাজ ও মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে।' রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'তিনি (জিয়াউর রহমান) অল্প সময়ের রাজনীতিতে একজন মহান সংস্কারক ছিলেন। এই দেশের জন্য যে সংস্কার দরকার, তিনি করে গেছেন। রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের সেই আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করতে পারলে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।'

বিএজে'র সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন ফয়সালের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, এনটিভির সাবেক বার্তা প্রধান খায়রুল আনোয়ার মুকুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টাইম অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিশিষ্ট লেখক ও টকশো ব্যক্তিত্ব সাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, ডিইউজের সাবেক নেতা বেলায়েত হোসেন, আমিরুল ইসলাম অমর, বিটিভির সাংবাদিক মোরশেদ আলম প্রিন্স প্রমুখ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, 'আতাউস সামাদের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সংবাদের তথ্যের নির্ভুলতা ও সত্যতা। সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের বিসিআইসি ভবন পরিদর্শনের সময় কর্মচারীদের এরশাদবিরোধী স্লোগানের সঠিক খবর বিবিসিতে প্রচার করায় বাংলাদেশে বিবিসির কার্যালয় বন্ধ ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তিনি ভুল স্বীকার না করে সত্যের পক্ষে অটল থাকেন।'

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত