ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বগুড়ায় সবজি-মাছ-মুরগিতে স্বস্তি চাল-ডালের চাপে মধ্যবিত্ত

বগুড়ায় সবজি-মাছ-মুরগিতে স্বস্তি চাল-ডালের চাপে মধ্যবিত্ত

বগুড়ায় আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় কমেছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও। এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে এর বিপরীতে বেড়েছে চাল ও বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম। ফলে একদিকে কিছু পণ্য কিনতে কম টাকা খরচ হলেও অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চাপে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, খান্দার বাজার ও কলোনি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি নিয়ে আসছেন পাইকারি বিক্রেতারা। পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটল, কাঁচ, মরিচ, ঢেঁড়স, বেগুন, করলা, ধনেপাতা, টমেটো ও লাউয়ের দাম কমেছে।

অন্যদিকে ২৫ কেজির বস্তায় চালের দাম জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ধরনের ডালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে গরু, মহিষ ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে।

কমেছে শীতকালীন সবজির দাম : বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। গত সপ্তাহে প্রতি পিস ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় নেমেছে। প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি বেগুন ১০০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসার দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি করলা ৬০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মাছ, মুরগি ও ডিমেও কমেছে দাম : বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসের শেষ সপ্তাহে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় মাছের বিক্রি কমেছে। পাশাপাশি সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনেও কিছু মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে বড় আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। ছোট ও মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম ২৮০ টাকা থেকে কমে ২৫০ টাকা হয়েছে। কাতলা মাছ ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৫০ টাকা, গ্রাসকার্প ৩২০ টাকা থেকে ২৯০ টাকা, কার্পজাতীয় মাছ ৩০০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাঙাশ মাছের দামেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে এ মাছের দামের বিষয়ে বাজারে পাওয়া তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও গত সপ্তাহের ২২০ টাকা থেকে কমে ২০০ টাকা, আবার কোথাও আকারভেদে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। ডিমের দামও গত এক সপ্তাহে হালিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। লাল ডিমের দাম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৫ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৪ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৮৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম কমলেও সব ধরনের মাছের দাম একই হারে কমেনি। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো কোনো মাছের দাম কমলেও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের কারণে সামগ্রিক বাজার খরচে স্বস্তি মিলছে না। চালের বস্তায় বাড়তি ৭০ থেকে ১০০ টাকা : সবজি ও মাছের দাম কমলেও চালের বাজারে বেড়েছে খরচ। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ২৫ কেজির বস্তায় বিভিন্ন জাতের চালের দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৫ কেজির বস্তা আটাশ চালের দাম ছিল ১ হাজার ২৮০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বিআর-২৯ চালের দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ টাকা, নাজিরশাইল ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাটারিভোগ ১ হাজার ৯৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা এবং মিনিকেট ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মৌসুমি বোরো চালের।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত