
গত দেড় বছরে পুঁজিবাজারের প্রায় ২০০টি অভিযোগ তদন্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএসইসি এই তদন্তগুলো করেছে। এর ভিত্তিতে আমাদের প্রধান পদক্ষেপ ছিল শাস্তিমূলক জরিমানা আরোপ। আমরা গত ১৮ মাসে ১৪৮৮ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করেছি। যা থেকে আদায় হয়েছে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
গতকাল রোববার রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন দ্য স্টক মার্কেট’- শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করে মাত্র ৫ কোটির একটু বেশি আদায় করেছি, এটি নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আছে। কিন্তু অতীত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই পরিমাণ জরিমানা আগে কখনও আদায় হয়নি। আমাদের রুলস অনুযায়ী, যখন কাউকে জরিমানা করা হয়, তার পরে অন্তত ৯ মাস সময় পায় সেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার জন্য। এরপর অনেকেই জরিমানাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছেন, এতে আদায়ে আরও দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যে অর্থদণ্ডগুলো করেছি, তার প্রতিটি ফাইল পুঙ্খনাপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেই করা হয়েছে। এজন্য বলতে পারি যে, আমরা জরিমানা করেছি তা আদায় হবেই। আমরা আশা করছি এই জরিমানার অর্থ আমরা ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সালের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাব।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, আমাদের সময়ে ৩০০-এর বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আমরা তদন্তের পর প্রথমবারের মতো মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অনেকগুলো অভিযোগ দুদকে পাঠিয়েছি। গত ১৮ মাসে আমরা এমন ১৬টি অভিযোগ দুদকে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে অনেকগুলো মামলাও হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় গত ২৫ বছরের ইতিহাসে স্বল্প সময়ের দায়িত্বে আমরা যে সংস্কারগুলো করতে সক্ষম হয়েছি, তা অতীতে কখনও হয়নি। আমরা অনেকগুলো আইন-বিধিমালায় সংস্কার এনেছি। শুরুতেই আমরা মার্জিন নীতিমালায় সংস্কার এনেছি, পরে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় সংস্কার আনা হয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা চাই এমন একটি পুঁজিবাজার যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারী মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগে আসুক। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ড রুলস সংস্কারে ট্রাস্টি, সম্পদ ব্যবস্থাপক ও কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব এমনভাবে বণ্টন করে দিয়েছি, যাতে কেউ দায়মুক্তি না পেতে পারে। পরে আমরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) রুলসে সংস্কার এনেছি। তিনি বলেন, আমরা ভালো কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছি। বিগত বছরে যে কোম্পানিগুলো এসেছে, তার মধ্যে অনেকগুলো দুর্বল ছিল। আমরা চাই আগামী দিনে যে কয়টা কোম্পানি আসবে, সেগুলো যেন ভালো হয়। এজন্যই সেজন্য আমরা আইপিও রুলসে অনেকগুলো ভালো দিকে সংস্কার এনেছি।
বন্ড বাজার নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটা ড্রাফট করা হয়েছে, যাতে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো ব্যাংক নির্ভর না হয়ে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ নিতে পারে। গত দেড় বছরে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৮৪টি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই হার আগের কমিশনের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ আমরা অনেক বেশি কমিশন সভা করেছি। এই সময়ে কমিশন সভায় আগে সময়ের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি এজেন্ডা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও জানান তিনি। সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ এবং বিএসইসি কমিশনার মো. সাইসুদ্দিন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান।