
ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। ব্যাংক, বিমা, ওষুধ ও বহুজাতিক খাতের বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
ফলে কিছুটা স্বস্তি নিয়েই ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়। তবে গত সপ্তাহের শেষ চার কার্যদিবস টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার। এরপর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ফের দরপতন হয়। তবে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলল। ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি নীতিগত কিছু ইতিবাচক বার্তা এবং বাজারে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
ফলে ঈদের আগে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির বদলে ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন। একটি শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে সাধারণত কিছু বিনিয়োগকারী নগদ অর্থের প্রয়োজনে শেয়ার বিক্রি করেন। এ কারণে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে আবার বাজারে কিছুটা পতন হয়। কিন্তু বিক্রির চাপ কমায় ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে আবার ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৩টির। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৪টির দাম কমেছে এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইনটেক লিমিটেড।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, ব্র্যাক ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি এবং একমি পেস্টিসাইড। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট।