
অতীতের সরকারগুলো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ও এর আকার অতিরঞ্জিত বা ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, অর্থনীতির প্রতিটি খাতে তথ্যের যে কারচুপি করা হয়েছে, তা শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে এরমধ্যে সামনে এসেছে।
গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলো যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বা মোট জিডিপির পরিমাণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে, সেটার সংস্কার আমরা এরইমধ্যে শুরু করেছি। জিডিপির প্রকৃত আকার যখন আমরা পাব, তখন করের সঙ্গে এর আনুপাতিক হারটিও বাস্তবসম্মত হবে।’
অর্থনীতির সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু লুটপাটই নয়, খাতাণ্ডকলমেও ব্যাপক গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগের ‘পতিত সরকার’ সর্বদা রাজস্ব আয়কে বাড়িয়ে দেখাত, যার সঙ্গে প্রকৃত আহরণের কোনো সম্পর্ক ছিল না। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ পেয়েছেন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন বিশ্বের অন্যতম তলানিতে, যা ৭ শতাংশেরও কম। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিকে তিনি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এই সংকট থেকে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর তিনি জোর দেন।
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আমরা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব বলে আশা করছি। গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এবার বেশি আদায় সম্ভব হবে।’ সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কর-জিডিপি হারকে ইশতেহার অনুযায়ী প্রথমে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।