ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিগারেটকে তরুণদের নাগালের বাইরে রাখতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

সিগারেটকে তরুণদের নাগালের বাইরে রাখতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সস্তা হয়ে পড়ছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে দেশে ধূমপানের হার কমবে, অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যে করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও অর্থনিতি পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদউল হক। সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের বিদ্যমান চার স্তরের পরিবর্তে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে তিন স্তর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সব স্তরে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে অতিরিক্ত ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখারও আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা জানান, সিগারেট কর কাঠামোয় প্রস্তাবিত সংষ্কার বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বধির্ত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বিগত ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তামাকপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামের তারতম্য তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৮৮.৯৭ শতাংশ, আলুর দাম বেড়েছে ৮৬.৫৮ শতাংশ, আটার দাম বেড়েছে ৭৫.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১৫.৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬.৩৫ শতাংশ, প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১১.১১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের সেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সস্তা হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বাজারে চাল-ডাল, তেল-লবণসহ সবকিছুর দামই বাড়ছে। কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের দাম তেমন বাড়ে না। তাই এগুলো এখনো সবার বিশেষ করে তরুণ আর নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালেই রয়ে গেছে। এজন্য তামাক সেবন কমছে না; বরং আরও বাড়ছে। তাই তামাকজাত দ্রব্যের কার্যকর কর ও মূল্যবৃদ্ধি করে তামাকজাত দ্রব্যকে তরুণদের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। মাসুদউল হক বলেন, দেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর তেমনি তামাক নিয়ন্ত্রণেও তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা এবং ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত