ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শেয়ারবাজারে দরপতন চলছেই

শেয়ারবাজারে দরপতন চলছেই

অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা যেন থামছেই না| একের পর এক কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ| একই সঙ্গে বাজারে লেনদেনের গতি কমে যাওয়ায় আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে|

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে| এতে কমেছে মূল্যসূচক| সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কয়েক দফা বড় ধরনের দরপতন হয়েছে| গত ২৫ আগস্ট পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে| ওইদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন| এরপর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন কমে ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা হয়| গত ১৬ মার্চের পর যা সব থেকে কম|

এর আগে টানা কয়েক কার্যদিবস বাজারে দরপতন অব্যাহত ছিল| ১৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবস পতনের মধ্যে ছিল শেয়ারবাজার| ওই সময়ে ভালো-মন্দ নির্বিশেষে বিভিন্ন খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা যায়| বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, বিক্রির চাপ এবং বাজারে তারল্যের সংকট দরপতনের অন্যতম কারণ| পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগ না করে অপেক্ষার নীতি অনুসরণ করছেন| ফলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ বাড়ছে| এতে হচ্ছে দরপতন| বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে| ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়| তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান| লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে| ফলে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি সবকয়টি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়|

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলিয়ে মাত্র ৪৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে| বিপরীতে ৩০৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে| এছাড়া ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে| ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে| বিপরীতে ১৬৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে| মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে| বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে|

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে 'জেড' গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে| বিপরীতে দাম কমেছে ৮৯টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে| এছাড়া একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৯টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে| দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে| অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২২ পয়েন্টে নেমে গেছে| ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে|

মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে| বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা| আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি এক লাখ টাকা| এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা| এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার| কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে| দ্বিতীয় স্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার| ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন| এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স|

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে| বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে| এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট| লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা| আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা|

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত