ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অসুস্থতায় রোজা রাখতে না পারলে করণীয় কী

অসুস্থতায় রোজা রাখতে না পারলে করণীয় কী

অসুস্থতা, বার্ধক্যজনিত কারণ কিংবা ভ্রমণে থাকার সময় কারও পক্ষে যদি রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাদের জন্য ইসলামি শরিয়তে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য আছে বিশেষ ছাড়। অসুস্থ বা বার্ধক্যের কারণে কেউ যদি রোজা রাখতে একবারেই অক্ষম হন, তাহলে সে ফিদিয়া (বিনিময় বা মুক্তিপণ) আদায় করবে। ভ্রমণে থাকা অবস্থায় রোজা রাখতে না পারলে সুবিধামতো নিটকতম সময়ে কাজা আদায় করে নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রোজা নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের যারা পীড়িত বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আর যাদের রোজা পালনের সক্ষমতা নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদিয়া দেবে (প্রতি রোজার জন্য) একজন মিসকিনকে (এক দিনের নিজের) খাবার দেবে...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)

ফিদিয়া কী : ফিদিয়া হলো কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি হলে শরিয়তের পক্ষ থেকে যে বিনিময় বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। অপারগতার কারণে কোনো শারীরিক ইবাদত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদিয়াকে শরিয়তের পক্ষ থেকে আবশ্যকীয় করা হয়। বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারলে সুস্থ হয়ে পরে কাজা আদায় করতে হবে। তবে যদি রোজার কাজা আদায়ের আর সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ ফিদিয়া দিতে হবে।

ফিদিয়ার পরিমাণ : ফিদিয়ার পরিমাণ হলো একেকটি রোজার জন্য এক ফিতরা। ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘সদকাতুল ফিতর হলো ‘এক সা’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) খাবার। (২০২৬ সালের সর্বনিম্ন ফিতরার পরিমাণ ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানই ফিদিয়া।’

ফিদিয়া কখন দিতে হবে : সুস্থ হলে ব্যক্তিকে রোজার কাজা আদায় করতে হবে। রোজার কাজা আদায়ের আগেই যদি ব্যক্তি মারা যান, তাহলে তার পক্ষ থেকে পরিবারের লোকজন ফিদিয়া আদায় করবে। কারণ, মারা যাওয়ার কারণে তার আর রোজার কাজা আদায়ের সুযোগ নেই।

বদলি রোজা আছে? : অনেকে মনে করেন, কেউ অসুস্থ হলে বা রোজা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে বদলি রোজা রাখাতে হয়। বদলি রোজা বলতে ইসলামে কোনো পরিভাষা নেই। যাকে বদলি রোজার জন্য ঠিক করা হয়, তার ফরজ রোজা কে রাখবে? সুতরাং অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা রাখতে না পারলে ফিদিয়া দিতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত