ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অতিথি আপ্যায়নে যে সওয়াব পাওয়া যায়

ফাহিম হাসান
অতিথি আপ্যায়নে যে সওয়াব পাওয়া যায়

অতিথি আপ্যায়ন ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। হজরত মুহাম্মদ (সা.) অতিথি আপ্যায়ন করতেন। সাহাবিদেরও অতিথি আপ্যায়নে উৎসাহিত করতেন। অতিথি আপ্যায়ন মানুষের মধ্যে সদ্ভাব তৈরি করে। সম্পর্কের বাঁধন দৃঢ় করে। সামাজিক বন্ধন ও সৌহার্দ্য উন্নত করে। ইবরাহিম (আ.) প্রতিদিন মেহমানদারি করতেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমার ফেরেশতারা (ছেলেসন্তানের) সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহিমের কাছে এল। তারা বলল, সালাম। সেও বলল, সালাম। ইবরাহিম দ্রুতই কাবাব-করা ভুনা গরুর গোশত নিয়ে এল।’ (সুরা হুদ : ৬৯)।

অতিথিকে স্বাগত জানানো : মেজবানের দায়িত্ব হলো, অতিথি এলে তাকে স্বাগত জানানো ও তার আগমনে খুশি করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে কোনো অতিথি বা প্রতিনিধি দল এলে তাদের স্বাগত জানাতেন। খুশি প্রকাশ করতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল মহানবী (সা.)-এর কাছে এলে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিনিধি দলের প্রতি ‘মারহাবা’। যারা লাঞ্ছিত ও লজ্জিত হয়ে আসেনি।’ (বোখারি : ৬১৭৬)।

অতিথির প্রতি সদাচরণ : মুমিন-মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব হলো, ঘরে মেহমান এলে তার সঙ্গে সদাচরণ করা। তার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন মেহমানের প্রতি সদাচরণ করে।’ (মুসলিম : ৪৭)।

অতিথিসেবার ফজিলত : হজরত মুহাম্মদ (সা.) সবসময় মেহমানদারি করতেন। নিজের ঘরে খাবার না থাকলে মেহমানকে অন্য কারও ঘরে পাঠিয়ে দিতেন। হেরা গুহায় তিনি যখন জিবরাইল (আ.)-কে দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে খাদিজা (রা.)-এর কাছে ফিরে এলেন, তখন খাদিজা (রা.) তাকে যেসব কথা বলে সান্ত¡না দিয়েছিলেন, এর মধ্যে মেহমানদারি অন্যতম। খাদিজা (রা.) বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করনে, অসহায়-দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন।’ (বোখারি : ৩)।

অতিথিসেবায় রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। এতে আল্লাহ খুশি হন। মেজবানের ঘরে বরকত পাঠান। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে মেহমানদারি করা হয়, উটের কুঁজের গোশত কাটার উদ্দেশে ছুরি যত দ্রুত অগ্রসর হয়, সে ঘরে বরকত এর চেয়েও দ্রুত প্রবেশ করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

অতিথি আপ্যায়নে আছে কল্যাণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে মেহমানদারি করে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

কয় দিন মেহমানের সেবা করা উচিত : একদিন একরাত মেহমানের জন্য উত্তম ব্যবস্থাপনা করা ওয়াজিব। তিনদিন তিনরাত সাধারণ ব্যবস্থাপনা করা সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মেহমানের সম্মান একদিন ও একরাত। সাধারণ মেহমানদারি তিনদিন ও তিনরাত। এরপর (তা হবে) সদকা। মেজবানকে কষ্ট দিয়ে তার কাছে মেহমানের অবস্থান করা বৈধ নয়।’ (বোখারি : ৬১৩৫)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত