পাকিস্তান আমলের কুস্তিগীর তাবিউর রহমান। ষাটের দশকে যিনি পালোয়ান নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনে। স্বাধীনতার খেলোয়াড় থেকে সংগঠক হয়ে যান তিনি। ১৯৭৮ সালে প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন কুস্তি ফেডারেশনের। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাঝখানে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেনাশাসিত সময় বাদ দিয়ে ৪৪ বছর ধরেই কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাবিউর। অতি সম্প্রতি দেশের কুস্তিতে পালোয়ান যুগের সমাপ্তি ঘটেছে। গত ১৯ মার্চ বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাপারিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুদ্দিন হায়দার (অব.) কে সভাপতি এবং মাহবুবুল আমিন জীবনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় সে কমিটি। সেই কমিটিতে দেড় মাসের মধ্যেই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আমিন জীবন ফেডারেশন কার্যালয়ে আসেননি।
সভাপতি ফখরুদ্দিন হায়দার বলেন, সাধারণ সম্পাদককে আমি পাচ্ছি না। এমনকি তার সঙ্গে এখন পর্যন্ত আমি কথাও বলতে পারিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদকের মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কোনো সাড়া পাইনি। কোনো সভাও করতে পারিনি। সাধারণ সম্পাদক ছাড়া ফেডারেশন চলবে কী করে? এ ব্যাপারে করণীয় নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব ও সার্চ কমিটির কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, আমি জানিয়েছি। আজও (রোববার) কথা বলেছি এ নিয়ে। বলা হচ্ছে তাড়াতাড়ি নতুন সাধারণ সম্পাদক দেবে। সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন একজনের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কে তা আমাকে জানানো হয়নি। দেড় মাস কেটে যাওয়ার পরও সভাপতি ও ট্রেজারার মাসুদ আক্তার মোবারকি ফেডারেশনে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেও নির্বাহী কমিটির সভা করতে না পারায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কুস্তি ফেডারেশন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাকে সাধারণ সম্পাদক করে অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সেই মাহবুবুল আমিন জীবন অসুস্থ। বয়সও অনেক। অথচ এমন একজন অসুস্থ বর্ষীয়ান সংগঠককে ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সুপারিশ করেছিল সার্চ কমিটি। যার ফলে দেড় মাসেই ওই সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে।