ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৪২ বছর পর ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ নিউজিল্যান্ডের

৪২ বছর পর ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ নিউজিল্যান্ডের

ব্লেয়ার টিকনার, জ্যাকব ডাফি ও জ্যাকারি ফোকসের চমৎকার বোলিং নৈপুণ্যে মুখ থুবড়ে পড়ল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। ইংলিশদের অল্পতে আটকে দারুণ জয়ে দীর্ঘ ৪২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল নিউজিল্যান্ড। চার দশক পর ইংল্যান্ডকে ওয়ানডে ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশ করল কিউইরা। গতকাল শনিবার ওয়েলিংটনে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে- ৪ ও ৫ উইকেটে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। ফলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল কিউইরা। এর আগে প্রথম ও শেষবার ১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নেমে দারুণ শুরু করে নিউজিল্যান্ড। দুই পেসার জ্যাকব ডাফি ও জ্যাক ফকসের তোপে ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। জেমি স্মিথকে ৫ ও জো রুটকে ২ রানে বিদায় দেন ফকস। অন্যপ্রান্তে বেন ডাকেটকে ৮, অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে ৬ ও জ্যাকব বেথেলকে ১১ রানে আউট করেন ডাফি। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ডকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন জশ বাটলার ও স্যাম কারান। ৬৮ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৫ রানের ব্যবধানে বাটলার ও কারানকে শিকার করে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে ১০২ রানে পরিণত করেন আগের ম্যাচের হিরো পেসার ব্লেয়ার টিকনার।

এ অবস্থায় অষ্টম উইকেটে ৫০ বলে ৫৮ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডকে দ্রুত গুটিয়ে যাবার হাত থেকে রক্ষা করেন জেমি ওভারটন ও ব্রাইটন কার্স। ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩০ বলে ৩৬ রান করা কার্সকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন টিকনার। দশ নম্বরে নামা জোফরা আর্চারকে ১৬ রানে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে ২০০ নিচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় ফেলেন টিকনার। কিন্তু সেটি হতে দেননি ওভারটন। শেষ উইকেটে আদিল রশিদকে নিয়ে ২৬ বলে ৩৬ রান যোগ করেন তিনি। জুটিতে ২২ বলে ৩৪ রান তুলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ওভারটন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ও স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের বলে ওভারটন আউট হলে ৪০.২ ওভারে ২২২ রান তুলে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১০টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে ৬২ বলে ৬৮ রান করেন ওভারটন। নিউজিল্যান্ডের টিকনার ৪টি, ডাফি ৩টি ও ফকস ২টি উইকেট নেন।

জবাবে ৭৮ রানের সূচনা করে নিউজিল্যান্ড। তবে ৮১ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেন কিউই দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্র। কনওয়ে ৩৪ ও রবীন্দ্র ৪৬ রান করেন। এরপর মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ছোট ছোট ইনিংসের সুবাদে জয়ের লড়াইয়ে থাকে নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যথাক্রমে- ২১, ৩৪ ও ৪১ রান আসে। ড্যারিল মিচেল ৪৪, টম লাথাম ১০, মাইকেল ব্রেসওয়েল ১৩, মিচেল স্যান্টনার ২৭ ও নাথান স্মিথ ২ রান করেন। ১৯৬ রানে নিউজিল্যান্ডের অষ্টম উইকেট পতন হলে, জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু নবম উইকেটে ৩৭ বলে ৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে জয় এনে দেন ফকস ও টিকনার। ফকস ১৪ ও টিকনার ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের ওভারটন ও কারান ২টি করে উইকেট নেন।

বল ও ব্যাট হাতে দলের জয়ে অবদান রেখে এ ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড় হন টিকনার। সিরিজ সেরা হন মিচেল। ওয়ানডের আগে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত