
দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নাসির হোসেন। এই অলরাউন্ডারের মধ্যে এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগামীর ভরসার ছবি মিলত। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই নিজের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন ভক্ত ও বিশ্লেষকদের। মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলা, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়া আর দুর্দান্ত ফিল্ডিং দিয়ে তরুণ বয়সেই জাতীয় দলে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছিলেন। কিন্তু সময়ের স্রোতে তিনি এখন জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক ও আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় তার ক্যারিয়ার থমকে যায়। তবে হাল ছাড়েননি নাসির। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরেছেন। ৩৪ পেরুনো নাসির এবারের বিপিএলে নিজের ঝলক দেখালেন। চমকপ্রদ ব্যাটিংয়ে নিজের ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটি উপহার দিলেন, ছাড়িয়ে গেলেন চলতি বিপিএলের সবাইকে। টানা তিন ম্যাচ হারার পর নাসিরের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জয়ের মুখ দেখল ঢাকা ক্যাপিটালস। ৭ উইকেটে হারাল তারা নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে।
গতকাল বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচে শুরুতে বল হাতে ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৯০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন নাসির। মাত্র ৫০ বলে করা তার ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ২টি ছক্কা। নাসিরের ব্যাটেই ১৩৪ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪.১ ওভারে পূরণ করেছে ঢাকা। ছয় ম্যাচে ঢাকার এটি দ্বিতীয় জয়। দলটা টানা তিন ম্যাচ পর জয়ের ধারায় ফিরেছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস টুর্নামেন্টে টানা পঞ্চম হারের স্বাদ পেয়েছে। আগের ম্যাচে ৬১ রানে গুটিয়ে যাওয়া নোয়াখালী এবারও তেমন কিছুর শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল। ৪০ রানে হারিয়েছিল তারা ৫ উইকেট। পরে হায়দার আলি ও মোহাম্মদ নাবির লড়াইয়ে তারা ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু সেই স্কোর মামুলি হয়ে ওঠে নাসিরের রুদ্র রূপের সামনে। বল হাতে একটি উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত থাকেন তিনি ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৯০ রানে। ইনিংসটির পথে ২১ বলে তিনি পা রাখেন ফিফটিতে, তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের যা সবচেয়ে দ্রুততম। এবারের বিপিএলে আগের দ্রুততম ফিফটি ছিল কাইল মেয়ার্সের (২৩ বলে)। সেখানেই না থেমে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। প্রতিপক্ষ আর কিছু রান করলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও হয়তো পেতে পারতেন!
টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা ছিল ৮০। ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি ১৩ বছর আগের বিপিএলে! নাসিরের ইনিংসটি আরও বিশেষ কিছু হয়ে উঠছে ঢাকার রান তাড়ায় শুরুর ধাক্কায়। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই হাসান মাহমুদের শিকার হন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ (০)। ক্রিজে যান তখন নাসির। তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
নাসিরের পাল্টা আক্রমণ সেখান থেকেই। মোহাম্মাদ নাবিকে চার মারেন তিনি চারটি। মাজ সাদাকাতের ওভারে তিন চার এক ছক্কায় রান নেন ১৮। এরপর রেজাউর রহমান রাজার ওভারে তিন বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ পেরিয়ে যান তিনি পাওয়ার প্লেতেই। প্রথম তিন ওভারে ঢাকার রান ছিল ২ উইকেটে ১৪। নাসিরের বাউন্ডারির জোয়ারে পরের তিন ওভারে রান আসে ৫০! আরেক প্রান্তে ইরফান শুক্কুর তখন শুধু দর্শক। জুটির রান যখন ৫০ হলো, তার অবদান সেখানে মোটে ৬! জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া ইরফান আউট হয়ে যান ১২ রান করে। ঢাকার তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। স্ট্রোকের ভেলায় ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে জয়ের তীরে পৌঁছে যান নাসির।
অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে ৪০ বলে আসে ৬৪ রান। ম্যাচের প্রথম ভাগে দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে ইমাদ অপরাজিত থাকেন ১৬ বলে ২৯ রানে। ম্যাচের শেষের মতো ঢাকার শুরুটাও ছিল দাপুটে।
টস জিতে বোলিংয়ে নেমে তিনটি উইকেট তুলে নেয় তারা পাওয়ার প্লেতেই। ইমাদ ওয়াসিমের বলে কাভারে আলতো করে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার (১)। হাবিবুর রহমান সোহানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ, মুনিম শাহরিয়ারকে বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।