ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মোস্তাফিজ থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে

দাবি আসিফ নজরুলের
মোস্তাফিজ থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে

ভারতের সঙ্গে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে। প্রতিবেশী এই দেশটিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ভারতীয় উগ্র-হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির কারণে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ দলে থাকলে ভারতে জাতীয় দলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, আইসিসির কাছ থেকে তারা এমন কোনো চিঠি পাননি।

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গন সবখানেই প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আদৌ ভারতে খেলতে যাওয়া উচিত কি না। এই ইস্যুতে গত কয়েক দিনে একাধিকবার কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গতকাল সোমবার আবারও বাফুফে ভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। আসিফ নজরুল জানান, ক্রিকেট ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এরইমধ্যে আইসিসিকে দুটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যেই আইসিসির নিরাপত্তা টিমের পাঠানো একটি চিঠি পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই ক্রিকেটের খবর জানার জন্য এখানে এসেছেন। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন কোনো ডেভেলপমেন্ট নেই। আমরা দুটি চিঠি দিয়েছি এবং আইসিসির উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এর মধ্যে একটি বিষয় ঘটেছে যা আপনাদের জানানো প্রয়োজন। আইসিসির যে সিকিউরিটি টিম আছে, তারা একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি বিষয় ঘটলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।’ শর্ত তিনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজ অন্তর্ভুক্ত হন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। আইসিসির সিকিউরিটি টিমের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো পরিবেশ নেই।’

তিনি আরও বলেন, আইসিসি যদি আশা করে যে বাংলাদেশের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করতে হবে, সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরা যাবে না এবং ক্রিকেট খেলার জন্য দেশের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে, তবে সেটি হবে চরম অবাস্তব ও অযৌক্তিক দাবি। ভারতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, দেশটিতে বিরাজমান উগ্র-সাম্প্রদায়িক পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা সেখানে ক্রিকেট খেলা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। তার মতে, মোস্তাফিজ ইস্যু এবং আইসিসি সিকিউরিটি টিমের চিঠিই এই বাস্তবতাকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটের ওপর কোনো দেশের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা উচিত নয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে কোনো টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারিত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। আইসিসি যদি সত্যিই একটি বৈশ্বিক সংস্থা হয়ে থাকে, তবে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এই প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে আইসিসির নিরাপত্তা দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো চিঠির কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন বিসিবির এক পরিচালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আইসিসি এখনও আমাদের কোনো উত্তরই দেয়নি।’ এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের ভেতরেই অন্য কোনো ভেন্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, আপত্তি কোনো নির্দিষ্ট শহর নিয়ে নয়, বরং পুরো ভারত নিয়ে। প্রয়োজনে পাকিস্তান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতেও টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব থাকলে তাতেও সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত