ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

‘বাংলাদেশের বাদ পড়া ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত’

‘বাংলাদেশের বাদ পড়া ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত’

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির প্রেক্ষিতে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ভারত। তাই বাংলাদেশের এই পেসারকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানিয়ে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে আইসিসি কি ঠিক করেছে? ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান মার্ক বুচারের মতে, এই ঘটনা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে অনুসরণ করা উচিত।

উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্ট- এ টুর্নামেন্ট শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে ‘চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বুচার। এই পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন তিনি গত বছর পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে ভারতের অস্বীকৃতি জানানোর সঙ্গে। ‘এই ধরনের ঘটনা অতীতেও অনেকবার ঘটেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সমস্যা হয়েছিল এবং ফাইনালসহ ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে খেলার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছিল। ক্রিকেটের ইতিহাসে আমরা অনেকবারই দেখেছি, এক বা অন্য দলকে জায়গা দিতে টুর্নামেন্টের কাঠামো পাল্টানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে হচ্ছে, সেটা আগে দেখা যায়নি।’

ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার পরদিন গত ৪ জানুয়ারি বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়। এরপর দুই দফায় সভা হয় আইসিসি ও বিসিবির। বিসিবি দফায় দফায় তুলে ধরে নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার ব্যাপারটি। আইসিসি প্রতিবারই বলে দেয়, কোনো দলের প্রতি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা ঝুঁকি নেই। পরে আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ হেরে যায় ১৪-২ ভোটে। এর দুই দিন পরই আসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ছিল পাকিস্তান। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রতিবেশী দেশটিতে গিয়ে খেলতে রাজি হয়নি ভারত। যে কারণে হাইব্রিড মডেলে হয় টুর্নামেন্টটি। ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। বুচারের মতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরিস্থিতি সবাই আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিল। ‘আমার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত একটা উদাহরণ তৈরি করেছে, সবাই আগেই আসলে বুঝতে পেরেছিল কী হতে যাচ্ছে, বিষয়টা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, যেন দূর মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছিল যে, এটাই হবে তাদের অবস্থান। সেই সময়ে আইসিসির একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল, তারা কি এখন থেকে আসলে যা হওয়া উচিত তাই করবে? এটি (বাংলাদেশের বাদ পড়া) একটি দৃষ্টান্ত, যা অনুসরণ করা উচিত বলেই মনে করি আমি। যখন কোনো দল, সরকারি সিদ্ধান্তে বা নিজেদের কারণে হোক, যদি নিরাপত্তা শঙ্কা বা অন্য কোনো কারণে কোনো দেশে গিয়ে খেলতে না চায়, তখন তাদের বাদ দেওয়া উচিত। র?্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে পরের দল সুযোগ পাবে এবং তাদের ছাড়াই এগিয়ে যেতে হবে। আমার মনে হয়, এটাই দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত।’

গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ভারতীয় বোর্ড ও আইসিসির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা সেদিন বলেছিলেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পিসিবি প্রধান জানান, শুক্রবার বা সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা। এই মুহূর্তে এসে পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে যাবে না বলেই মনে হচ্ছে বুচারের। খেলায় অর্থের চেয়ে স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। ‘(ক্রিকেট বিশ্বে) ভারতের যে (শক্ত) অবস্থান, সেই একরকম অবস্থা অন্য দলগুলোরও আছে, এমনটা ভাবার মতো বোকা আমি নই। বিষয়টা এতটাই পরিষ্কার যে মহাকাশ থেকেও স্পষ্ট বোঝা যায়। যদিও বেশিরভাগ অর্থ কোথা থেকে আসে, তার চেয়ে খেলাধুলার স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। পাকিস্তান এখানে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পড়েছে, কারণ তারা হুমকি দিয়েছিল যে যদি বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তর করা না হয়, তাহলে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এখন তারা কী করবে? তারা কি সরে দাঁড়াবে? আমার সংশয় আছে, আমার মনে হয় অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

৫৩ বছর বয়সী বুচার ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ৮ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৪২৮৮ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাকি দুই সংস্করণে তিনি খেলেননি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৮০ ম্যাচে ৩৮ সেঞ্চুরিসহ ১৭৮৭০ রান করেছেন বুচার। ১৩টি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে দুটি ফিফটি আছে তার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত