ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সালমানের আউটে মিরাজের ভুল দেখছেন না মুশতাক

সালমানের আউটে মিরাজের ভুল দেখছেন না মুশতাক

মেহেদী হাসান মিরাজ ও সালমান আগার রান আউটের ঘটনা এতো তাড়াতাড়ি ঘটেছিল, ড্রেসিংরুমের অনেকেই বুঝতে পারেনি কী হয়েছে! টিভি রিপ্লে দেখে বোঝা গেছে মূল বিষয়টা। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও সরাসরি বোঝেননি কী হয়েছে। পুরো ঘটনা বুঝতে টিভিতে চোখ রেখেছিলেন তিনি। বারবার রিপ্লে দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, সালমান আগা ও মিরাজের আলোচিত রান আউটে মিরাজের কোনো ভুল নেই। পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার এই ঘটনায় সালমান আগারও কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছেন না। দুজন দুইরকম ভাবনাতে ছিল বলে মনে করেন মুশতাক।

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে। মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুত গতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানকে আউট দেন।

আউট হয়ে নিজের মেজাজ হারান সালমান। মিরাজকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। লিটনও এগিয়ে এসে সালমানকে পাল্টা জবাব দেন। সালমান নিজের মেজাজ স্থির রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তার অবয়ব ছিল রাগান্বিত। ড্রেসিংরুমের আগে নিজের গ্লাভস, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। ব্যাট আঘাত করেন মাটিতে। তাকে আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে কোচ মাইক হেসনকে কথা বলতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ার মাহমুদুর রহমান মুকুলের সঙ্গে। রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান।

কিন্তু মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেখিয়েছেন গেম অ্যাওয়ারনেস। সালমান ক্রিজের বাইরে আছেন তা বুঝে গিয়ে চতুরতা দেখিয়েছেন। যেখানে স্পিরিট অব দ্য গেমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিরই প্রশংসা করতে হবে।

‘ঘটনাটা এতো তাড়াতাড়ি হয়েছে, আমরাও বুঝতে পারিনি কি হয়ে গেল? আমি মনে করি, মিরাজ বলটা আটকাতে গিয়েছিল এবং ওই সময়ে সালমান ক্রিজের বাইরে ছিল। কিন্তু সে হয়তো চেয়েছিল বলটা মিরাজকে এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করবে। তবে মিরাজ সম্ভবত খুব স্বাভাবিকভাবেই বল নিয়ে থ্রো করেছে এবং রান আউটের আবেদন করেছে। সবকিছুই খুব দ্রুত হয়েছে। আমি মনে করি, কেউই ওখানে ভুল ছিল না। সালমান আগা সাহায্য করতে চেয়েছিল। আর মিরাজ পুরোপুরি ম্যাচেই ছিল। সে ভেবেছে তাকে রান আউট করার সুযোগ আছে।’

মিরাজের কোনো ভুল ছিল না ফের দাবি করে মুশতাক বলেছেন, ‘সালমান কী করছে সেদিকে মিরাজের ভাবনা ছিল না। সে ম্যাচের ভেতরে ছিল। আমি সত্যি করেই বলছি, মিরাজ কোনো ভুল করেননি।’ আউট হওয়ার পর নিজের হতাশা প্রকাশ করেন সালমান। হেলমেট, গ্লাভস মাটিতে ছুড়ে মারেন। ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন মাটিতে। সালমানের প্রতিক্রিয়াকেও বেশ স্বাভাবিকভাবে দেখছেন পাকিস্তানের হয়ে ৩৪৬ আন্তর্জাতিক উইকেট নেওয়া মুশতাক, ‘সালমানের হতাশা হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ সে বলটা এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে নিশ্চিত ছিল না কতদূরে সে দাঁড়িয়ে ছিল। দেখুন দুই পক্ষই কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়েছে। মিরাজের কাজ এবং সালমানের ভাবনা এখানে মিলেনি। ও হয়তো ভেবেছিল বলটা ডেড। কিন্তু খেলাটা তখনও চলছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত