ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মানিকের গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
মানিকের গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ দল। গতকাল বুধবার মালদ্বীপের রাজধানী মালে’তে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে লাল সবুজের যুবারা। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে নেপালকে কোণঠাসা করে রাখে বাংলাদেশ। কয়েকটি প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর একাদশ মিনিটে মেলে গোলের দেখা। মোহাম্মদ মানিকের গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমায় ব্যবধান আর বাড়েনি। ২০২৪ সালে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে প্রথম শিরোপা বাংলাদেশ জিতেছিল নেপালকে ফাইনালে ৪-১ গোলে হারিয়ে। গত আসর হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে, সেবার সেমি-ফাইনালের দেখায় বাংলাদেশ জয় পায় ২-১ ব্যবধানে। নেপালের উপর সে আধিপত্য এবারও ধরে রাখল যুবারা।

যদিও ম্যাচের আগে দুর্ভাবনার কমতি ছিল না বাংলাদেশের। ডিফেন্ডার আশিকুর রহমানের চোট, ভারত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ডাগআউটে প্রধান কোচ মার্ক কক্সের অনুপস্থিতি চিন্তার ভাঁজ তুলেছিল। তবে দল পরিচালনার ভার সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু সামলেছেন ভালোভাবেই। তৃতীয় মিনিটেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণ শাণান রোনান সুলিভান। বলে দৌড়ের সময় ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারায় শট হয়নি ঠিকঠাক, হাওয়ায় ভেসে যাওয়া বল গ্লাভসে জমান নেপাল গোলকিপার। ষষ্ঠ মিনিটে ভালো জায়গা থেকে নাজমুল হুদা ফয়সাল পোস্টের বাইরে শট নিয়ে হতাশা বাড়ান। গোছাল আক্রমণ থেকে একাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তিন জন নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া নেওয়া করে মুর্শেদ আলি চিপ বাড়ান বক্সে, নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন মোহাম্মদ মানিক। এই গোলের রেশ থাকতেই রোনান জালে বল জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে পাননি গোল।

সপ্তদশ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটি পায় গ্রুপ সেরা হওয়া সেমি-ফাইনালে উঠে আসা নেপাল। তবে সুভাস বমের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে বাংলাদেশের ত্রাতা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। এর একটু পর ফয়সালের আরেকটি হেড হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ২১তম মিনিটে আবারও হতাশ হতে হয় ফয়সালকে। বক্সে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে রোনান বাড়িয়ে দেন ডান দিকে থাকা মুর্শেদকে, তার ক্রসে ফয়সালের হেড আটকান গোলকিপার। বাকি সময়ে ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে নেপালের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে সতীর্থের লং পাসে ছুটে গিয়ে ভালো জায়গায় থেকেও পা ছোঁয়াতে পারেননি জয় আহমেদ। ছয় মিনিট পর নেপালের বিজ্ঞান খাদকার ফ্রি কিক উপরের জাল কাঁপায়। এরপর থেকে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার কমে কিছুটা। সমতায় ফিরতে মরিয়া নেপালের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগী হয় দল। ৮০তম মিনিটে সুযোগও এসেছিল, কিন্তু সতীর্থের কাটব্যাক গোলমুখে পাওয়ার পর ডিফেন্ডারের চার্জে ভারসাম্য হারিয়ে শটই নিতে পারেননি স্যামুয়েল রাকস্যাম। ৮৭তম মিনিটে বদলি নামেন ডেকলান সুলিভান। লাল সবুজের জার্সিতে ভাই রোনানের অভিষেক হয়েছিল আগেই, এবার ডেকলানেরও হলো। একটু পরই অনুভব পুরির দুরপাল্লার জোরাল শট শুয়ে পড়ে আটকে বাংলাদেশকে স্বস্তিতে রাখেন ডিফেন্ডার ইউসুফ আলি।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রোনানের পাসে গোলমুখ থেকে সুমন সরেনের শট নেপাল গোলকিপার ফেরালে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। কিন্তু স্বস্তির জয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দে ঠিকই মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত