
ম্যাচের ৩৫ সেকেন্ডে গোল হজমের ধাক্কা, তিনবার পিছিয়ে পড়া- সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে ওঠার পর জার্মান দলটির কোচ ভেসোঁ কম্পানি বলছেন, অদম্য মানসিক শক্তি ও নিজেদের প্রতি বিশ্বাসের ফল পেয়েছেন তারা। কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে গত বুধবার ঘরের মাঠে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে রেয়ালকে ৪-৩ গোলে হারায় বায়ার্ন। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের জয় ৬-৪ গোলে।
ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসান কম্পানি। সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
‘ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য ছেলেরা আজ মানসিকভাবে শক্তিশালী ছিল। সমর্থকরাও আমাদের সাহায্য করেছে। আমরা শান্ত ছিলাম এবং সবসময় মনে হয়েছে, আমাদের মুহূর্ত আসবেই। এই জয়টা ছেলেদের প্রাপ্য ছিল। ম্যাচে ফেরার জন্য আমরা লড়াই করার অদম্য বিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছি।’ ‘খেলা চলাকালীন এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা আমাদের দলের আছে। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোল হজম করার পর নতুন করে শুরু করতে হয়। আমরা নিজেদের খেলায় মনোযোগী ছিলাম।’
বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারের মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন আর্দা গিলের। এরপর সফরকারীরা আরও দুইবার গোল করে এগিয়ে যায় এবং প্রথমার্ধ শেষে তারা ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে মাদ্রিদে প্রথম লেগে ২-১ গোলে জয়ী বায়ার্ন শান্ত থেকে চালিয়ে যায় খেলা। শেষ দিকে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার লাল কার্ডের পর, লুইস দিয়াস ও মাইকেল ওলিসের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ছয়বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন এই মৌসুমে ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনায় ছুটে চলেছে। তাদের বুন্ডেসলিগা শিরোপা ধরে রাখা প্রায় নিশ্চিত। পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে দ্বিতীয় স্থানের চেয়ে তারা এগিয়ে আছে ১২ পয়েন্টে। জার্মান কাপের সেমি-ফাইনালে তারা খেলবে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। রিয়ালের বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখায় শেষ চারের প্রথম লেগে টাচলাইনে দাঁড়াতে পারবেন না কম্পানি।