
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪০ কিমি-এর বেশি গতিতে করেছেন বল। গতকাল ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ড ওপেনার নিক কেলি সংবাদ সম্মেলনে এসে তার প্রশংসা করলেন। নাহিদ শুরুতেই জোড়া আঘাত করেন। নিজের প্রথম দুই ওভারের প্রথম বলেই দুটি উইকেট পান। পরে শেষ দিকের স্পেলে আরও তিন উইকেট পকেটে ভরেন। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথম ফাইফার নিয়েছিলেন। এক মাসের একটু বেশি সময় পর আবার পাঁচ উইকেট নিলেন।
বাংলাদেশের এই গতির তারকাকে নিয়ে কেলি বলেছেন, ‘হ্যাঁ সে (নাহিদ রানা) দারুণ এক্সাইটিং ট্যালেন্ট। উইকেট তাকে কিছুটা সাহায্য করেছে মনে হয়। ভালো পেসে বল করে। আজকে ঘাস বেশি ছিল উইকেটে। ভালো সুইং করেছে। ১৪০+ গতিতে বল করে গেছে। বাংলাদেশ দারুণ একজন ফাস্ট বোলার পেয়েছে।’
নাহিদের টানা ১৪০ কিমি গতিতে বল করতে দেখে মুগ্ধ এই ওপেনার, ‘সে আজকে স্টাম্পে বেশি বল করেছে। সুইং পেয়েছে ভালো। ভালো বৈচিত্র্য ছিল। পেস হয়তো একদম একই ছিল না। আজকে বেশি ছিল। ঘাস বেশি ছিল আজকে। উইল ইয়াংকে যেভাবে ফেরাল, দারুণ ডেলিভারি ছিল। গতিটা সে ১৪০+ এ ধরে রাখতে পারে। ব্যাপারটা বেশ ভালো।’
কেলি আরও বলেছেন, ‘শুরুর স্পেলে দারুণ গতি ছিল তার বলে এবং সে সেই গতিটা ধরে রেখেছিল। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হয়েছে। সে শুরু থেকেই ভালো গতিতে বল করেছে। কোনো বাজে বল দেয়নি। আগের দিনও ভালো বল করেছিল তবে উইকেট পায়নি। এবার উইকেটে ঘাস বেশি ছিল পেস আর বাউন্স বেশি ছিল, উইকেটও পেয়েছে। আমরা চাইব এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে কাজে লাগাতে।’
কেলি বলে যান, ‘সে একজন উইকেটশিকারি বোলার। অধিনায়ক তাকে ছোট ছোট স্পেলে ব্যবহার করেছেন। শুরুতে এসেই জোরে বল করেছে। চেষ্টা করেছে উইকেট তোলার। প্রথম ম্যাচে ভালো বল করলেও উইকেট পায়নি। আজকে আরও ভালো করেছে। আমাদের জুটিগুলোর সময় উইকেট নিয়েছে। ইনিংসজুড়ে দারুণ গতিতে বল করে গেছে। ভালোভাবে তাকে ব্যবহারও করা হয়েছে। প্রথম বলে এসেই ১৪৫ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছে।’
রানার এত গতিতে বল করা অবাক করেছে কি কেলিকে। তার ভাষ্য, ‘অনেক দিন এখানে খেলা হয়নি। ফলে এত পেসের বলও খেলা হয়নি। কাজটা কঠিন ছিল অবশ্যই। প্রথম বল থেকেই সে জোরে বল করে গেছে। শেষ বলটাও ১৪৫+ এ করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদম এত পেসে বল করে যাওয়া অবশ্যই বেশ কঠিন একটি কাজ।’