
হতাশাময় মৌসুমের মাঝে ক্লাব ও কোচের সঙ্গে মোহামেদ সালাহর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠলেও, তা ‘পুনরায় ঠিকঠাক’ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তবুও, চুক্তির এক বছর বাকি থাকতে তার হঠাৎ ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তখন অবাক করে অনেককে। ওঠে কিছু প্রশ্নও। তবে শেষপ্রান্তে এসে লিভারপুল তারকা জোর দিয়ে বললেন, বিদায়বেলায় তার মনে কোনো কষ্ট নেই এবং নিজের সিদ্ধান্তেই চলে যাচ্ছেন তিনি। অ্যানফিল্ডে সালাহর সাফল্যে ভরা ৯ বছরের অধ্যায় শেষ হবে এই গ্রীষ্মে। গত বছর ক্লাবটির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করলেও, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত মার্চের শেষ দিকে মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড জানিয়ে দেন, চলতি মৌসুমই লিভারপুলে তার যাত্রার সমাপ্তি। দুই পক্ষের সমঝোতায় ফ্রি ট্রান্সফারে অ?্যানফিল্ড ছেড়ে যাবেন সালাহ।
রোমা থেকে ২০১৭ সালে লিভারপুলে পাড়ি জমানোর পর, অল্প সময়েই দলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন হয়ে ওঠেন সালাহ। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের আক্রমণের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন তিনি। এই জার্মান কোচের হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও প্রিমিয়ার লিগসহ সব শিরোপাই জিতেছে ক্লাবটি এবং প্রতিটি সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সালাহ। বর্তমান কোচ আর্না স্লটের অভিষেক মৌসুমে লিভারপুল যে গতবার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে, সেখানেও কাণ্ডারির ভূমিকায় ছিলেন সালাহ; আসরের সর্বোচ্চ ২৯টি গোল করেন তিনি। লিভারপুলে সালাহর কাটানো ৯ মৌসুমের মধ্যে চলতিটাই তর্কাতীতভাবেই সবচেয়ে বাজে। মৌসুমটা যে তাদের শিরোপাশূন্য যাচ্ছে, সেটা অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। এবার তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও প্রত্যাশার ধারেকাছে ছিল না। বরং মৌসুমের প্রথমভাগে তা এতটাই বাজে ছিল যে, দল থেকে বাদও পড়েন তিনি। তখনই কোচের সঙ্গে তার দ্বন্দ প্রকাশ্য হয়; তাকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সালাহ।
বছরের শুরুতে আফ্রিকান নেশন্স কাপ শেষে ক্লাবে ফেরার পর অবশ্য স্লট-সালাহর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তবে কিছুদিন পরই ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের ফ্রি ট্রান্সফারে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ক্লাব মেনে নেওয়ায় নতুন করে ধারণা মেলে, দুই পক্ষের মধ্যে হয়তো সবকিছু আগের মতো ভালো অবস্থায় ফেরেনি।