
ড্রেসিং রুম থেকে যথারীতি সবার আগে বের হলেন মুশফিকুর রহিম। মাঠে নেমে ফুটবল নিয়ে কসরত শুরু করলেন। একটু পরে একে একে মাঠে নামতে শুরু করলেন অন্যরা। গা গরমের সেই পর্বে চমকে উঠতে হলো একজনকে দেখে। জাকির হাসান! সিলেট টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াডে নেই জাকির। গত বুধবারই তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলেছেন বিকেএসপিতে। তাকে সিলেটে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে দেখতে পাওয়াটা চমকপ্রদই বটে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাকিরের দলে অন্তর্ভুক্তির খবর নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় দলের ফিজিও বায়োজিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘মিরপুর টেস্টে খেলার সময় একটি ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে চোট পেয়েছেন সাদমান। তার বুকে এখনো ব্যাথা থাকায় দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছে না।’ মূলত প্রথম টেস্ট চলাকালীন সময়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে ব্যথা পেয়েছিলের এই ওপেনার। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে ব্যাটিং করার সময় সেই চোট আবার মাথাচাড়া দিয়েছে। মাত্র কয়েকটি বল খেলেই নেট ছাড়েন তিনি।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, দলের মূল দুই ওপেনারের চোট শঙ্কায় জাকিরকে আপাতত কাভার হিসেবে রাখা হয়েছে। ‘আমাদের দুই ওপেনার সাদমান ও জয়ের চোট আছে। যদিও স্কোয়াডে আরেকজন ওপেনার আছে (তানজিদ হাসান), তবে শেষ পর্যন্ত ওরা দুজনই যদি খেলতে না পারে, তাহলে তো আরেকজন ওপেনারও লাগবে। এজন্যই মূলত জাকিরকে আজকে সকালে পাঠানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আজকে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা নাগাদ হয়তো জানা যাবে সাদমান ও জয়ের চোট কতটা গুরুতর। ওদের কাউকে যদি না পাই, তাহলে জাকিরকে দলে যোগ করা হবে। ওরা যদি খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে জাকির বাইরে চলে যাবে। জাকির যেহেতু সাদা বলের ক্রিকেট খেলছিল, এজন্য লাল বলে মানিয়ে নিতে একদিন আগে পাঠিয়েছি ামরা। শেষ মুহূর্তে প্রয়োজন পড়লে যেন তৈরি থাকে।’
সাদমান ও জয় চোট পেয়েছেন মিরপুর টেস্টে। ফিল্ডিংয়ের সময় সাদমান আঘাত পেয়েছেন আঙুলে। জয়ের আঙুলের হাড় নড়ে গেছে। সেই চোট নিয়েই অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার নেটে ব্যাটিংয়ে নামতে দেখা গেছে তাকে। সাদমানও মাঠে ছিলেন, তবে ব্যাটিং করেননি। সাদমান বা জয়ের কোনো একজন খেলতে না পারলে অবশ্য জাকিরের আগে সুযোগটি পাবেন তানজিদ। সিলেটে টেস্ট অভিষেক হবে আগ্রাসী বাঁহাতির। নিয়মিত দুই ওপেনারের কেউ না থাকলে ফিরতে পারবেন জাকির। বাংলাদেশের হয়ে ১৩টি টেস্ট খেলেছেন জাকির। ২০২২ সালে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও পরের দুই টেস্টে ফিফটি করলেও সেই ধারা তিনি ধরে রাখতে পারেননি পরের সময়টায়। সবশেষ তাকে দেখা গেছে ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে।