
নিখুঁত কোনো ফিনিশিংয়ে যেকোনো সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চোখধাঁধানো কোনো পাসে লড়াইয়ের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন ভিতিনিয়া। পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেন্সো। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে বিশ্বকাপের পরের ধাপে খেলা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। নবাগত ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করা পর্তুগাল ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। নকআউট পর্বে খেলার টিকেট পেয়েছে তারাও। গ্রুপ সেরা হতে এই ম্যাচ জিততে হবে পর্তুগিজদের। আর ড্র হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে খেলবে দক্ষিণ আমেরিকার দল কলম্বিয়া।
এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট দলগুলোর একটি পর্তুগালের বিপক্ষে কঠিন লড়াই হবে বলে মনে করছেন কলম্বিয়ার কোচ লরেন্সো। নিজেদের ঘরানার ফুটবল খেলেই সেই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে চান তিনি। ‘আমাদের খেলার শৈলী এবং ফুটবলীয় পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করব। তবে নিঃসন্দেহে, পর্তুগালের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ও শক্তির জায়গাগুলোর দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। তারা খুবই সুশৃঙ্খল ও গোছানো একটি দল। তাদের কোচ ও ফুটবলাররা বিশ্ব ফুটবলে অভিজাত পর্যায়েৃ আর সেটা তাদের খেলাতেই ফুটে ওঠে।’
টুর্নামেন্টের আরও পরের দিকে পর্তুগালের মতো মানসম্পন্ন দলের মুখোমুখি হতে পারলে বেশি খুশি হতেন লরেন্সো। তবে ড্রয়ের পর থেকেই এই প্রতিপক্ষকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। সেটা বলতে গিয়েই পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো ও প্লেমেকার ভিতিনিয়ার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন কলম্বিয়ার কোচ। ‘ভিতিনিয়া ও রোনালদো, দুজনই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড়। একজন দলকে গুছিয়ে রাখা এবং আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়ার দিক থেকে অনন্য, আর অন্যজন ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে। তাই তাদেরকে ফাঁকায় রাখা কিংবা অবহেলা করা যাবে না। আশা করি, আগামীকাল (রোববার) আমাদের দলীয় সমন্বয়টা চমৎকারভাবে কাজ করবে। ‘ভিতিনিয়া যেভাবে খেলা শুরু করে ও দলকে টেনে নিয়ে যায়, তা রুখতে এবং রোনালদোর ফিনিশিংয়ে দক্ষতাণ্ড যা বিশেষ মনোযোগ দাবি করে, সেটা সামলাতে আগামীকাল আমাদের বিশেষ খেলায় সুশৃঙ্খলা প্রয়োজন।’
২০১৮ সালের আসরে শেষ ষোলোতে খেলা কলম্বিয়া গত বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি বাছাই উৎরাতে না পারায়। বিশ্ব মঞ্চে ফিরে আবারও নকআউটে জায়গা করে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি দলটি। এখন লক্ষ্য গ্রুপ সেরা হওয়া। কারণ, গ্রুপ সেরা হলে শেষ বত্রিশে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লরেন্সো অকপটে স্বীকার করেছেন যে, টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য পথচলা নিয়ে তারাও ভাবছেন। ‘কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে ম্যাচটি খেলতে নামছি। তবে আশা করি দারুণ একটি ম্যাচ খেলতে পারব এবং সেটা জিততে পারব। কারণ ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। নিঃসন্দেহে, আমরা সবাই সামনের পথচলা নিয়ে ভাবছি। নিশ্চিতভাবেই আমরা বিশ্বাস করি এটা আমাদের অনুকূলে আসবে এবং আমরা টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ করার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশ সময় আজ শেষ গ্রুপ ম্যাচে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। ম্যাচটি হবে মায়ামিতে, যেখানে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে হৃদয় ভেঙেছিল তাদের। সঙ্গে সেদিন তাদের ২৮ ম্যাচের অপরাজিত পথচলায়ও ছেদ পড়েছিল। এই মাঠে আরেকটি বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে লরেন্সো জানিয়েছেন, ‘উইনিং কম্বিনেশনে’ তেমন পরিবর্তন আনবেন না তিনি। সঙ্গে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, দলকে বিশ্বকাপে আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের কথা। ‘যখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা আমার কাছে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের দাবি করেছিল। এখন আমরা আরও বেশি চাই। সৃষ্টিকর্তা সহায় হলে, আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাব এবং কলম্বিয়াকে সম্ভাব্য সেরা অবস্থানে নিয়ে যাব।’